
নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) চরম গাফিলতির জেরে সৃষ্ট তীব্র ছাত্র-যুব আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকার করল মোদি সরকার। রাজধানী দিল্লির যন্তর-মন্তরে আন্দোলনরত 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) এবং সরকারের মধ্যে অনুষ্ঠিত তৃতীয় দফার বৈঠকে আন্দোলনকারীদের তিনটি দাবিই মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।
এই সমঝোতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। নিট কেলেঙ্কারি ও এনটিএ-এর ব্যর্থতার দায়ভার গ্রহণ করে তিনি নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, যা সরকার মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।
এছাড়া দ্বিতীয় দাবি অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মানসিক চাপ ও পরীক্ষা বাতিলের হতাশায় যেসব শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল, তাদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
তৃতীয় দাবিটিও সরকার গ্রহণ করেছে। নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে দেশজুড়ে যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলছিল, তাতে অংশ নেওয়া ককরোচ জনতা পার্টির ছাত্র ও যুবকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব ধরনের মামলা ও আইনি পদক্ষেপ অবিলম্বে প্রত্যাহার করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সিজেপির ব্যানারে দেশজুড়ে এই আন্দোলন চলছিল। শুরুতে সরকার মামলা প্রত্যাহার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সীমিত সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় ছিল। তবে দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান কর্মসূচির মুখে সরকার শেষ পর্যন্ত তিনটি দাবিই মেনে নিতে বাধ্য হলো।
সব দাবি বাস্তবায়নের ঘোষণায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস দেখা দিলেও, তারা আপাতত রাজপথ ছাড়ছেন না। সিজেপি নেতাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।