
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার আঁচ এখন ইয়েমেনের আঞ্চলিক যুদ্ধেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রধান লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হোদাইদাহ বন্দরনগরীতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট। এই বন্দরটি হুথি-নিয়ন্ত্রিত উত্তর ইয়েমেনে বাণিজ্যিক পণ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান পথ।
হুথি-সমর্থিত আল মাসিরাহ টিভি জানিয়েছে, সৌদি জোটের এই হামলা মূলত টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষের স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। এছাড়া কামারান দ্বীপেও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এখন পর্যন্ত এক নারী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানিয়েছে, হোদাইদাহ বন্দরে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আনুষ্ঠানিকভাবে এই বন্দরটিকে লক্ষ্য করে হামলার কথা অস্বীকার করেছে।
হামলার পরপরই হুথি বিদ্রোহীরা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে চালানো এই হামলার জন্য রিয়াদকে মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হবে এবং এর কঠোর জবাব দেওয়া হবে। হুথিদের মতে, হোদাইদাহকে লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে সৌদি সরকার বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এই পরিস্থিতির জন্য হুথিদেরই দায়ী করেছেন। তিনি লোহিত সাগরে জাহাজগুলোর ওপর হুথিদের হামলাকে 'কাপুরুষোচিত ও বেপরোয়া' বলে অভিহিত করেন। আল-মালিকি সতর্ক করে বলেন, যদি হুথিরা তাদের শত্রুতা অব্যাহত রাখে, তবে জোট সব ধরনের প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দ্বিধা করবে না। উল্লেখ্য, এর আগে বুধবার লোহিত সাগরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়, যার একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। হুথিদের দাবি, ওই জাহাজগুলো তাদের ঘোষিত অবরোধ লঙ্ঘন করেছিল।
শনিবার (২৫ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।