
জুলাইয়ের অগ্নিঝরা গণ-আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসকরা নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়েছিলেন। যেদিন দেশে গণতন্ত্র হরণ করা হয়েছে, সেদিনই জুলাইয়ের সূচনা হয়েছে। জুলাইয়ের কৃতিত্ব ১৮ কোটি মানুষের। রোববার ডকটরস রেজিস্ট্যান্স ডে বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে এবং প্ল্যাটফর্ম অব মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল সোসাইটির সহযোগিতায় আয়োজিত 'অগ্নিঝরা জুলাইয়ে চিকিৎসকদের অবদান' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ দাবি উত্থাপন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন কেবল ৩৬ দিনের নয়, এটি ১৭ বছরের দীর্ঘ লড়াইয়ের ফসল। তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ধারণ ও অংশগ্রহণকারীদের স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার জুলাই অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করেছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার নতুন দায়িত্ব তৈরি হয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, আমার কাজ ছিল শিক্ষার্থীদের পড়ানো, কিন্তু বিবেকের তাড়নায় আমরা রাস্তায় নেমে এসেছি। সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাহেদ আলম বলেন, ৫ আগস্টের যাত্রা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। চিকিৎসকরা নিজেদের ঝুঁকি নিয়ে আহতদের চিকিৎসা দিয়েছেন, যা আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশের আদর্শ হওয়া উচিত।
আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, গত ১৭ বছরের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে জুলাইয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০, ২০২৪ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনসহ এমন কোনো গণআন্দোলন নেই, যেখানে চিকিৎসকদের অবদান ছিল না। ভবিষ্যতে জুলাইয়ের ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তি বা দখলদারিত্বের কোনো সুযোগ যেন সৃষ্টি না হয়, সেজন্য চিকিৎসকসহ সকল গণতন্ত্রকামী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
শহীদ ডা. সজীব সরকারের বাবা হালিম সরকার বকুল আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, তার ছেলে সজীব ১৮ জুলাই নরসিংদী থেকে ঢাকায় এসে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। তিনি নরসিংদী মেডিকেল কলেজটি শহীদ ডা. সজীব সরকারের নামে নামকরণের অনুরোধ জানান। সভায় সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি হতে দীর্ঘ ১৫ বছরের আন্দোলন ও ত্যাগের প্রয়োজন হয়েছে। জুলাইয়ের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সত্ত্বেও চিকিৎসকরা আজও যথাযথভাবে মূল্যায়িত নন। বক্তারা জুলাইয়ের আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীদের অবদান নথিভুক্ত করা এবং শহীদ ও নির্যাতিত চিকিৎসকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানান।