
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বেশ কয়েকটি কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাগের জোলঘাদর এই শর্তগুলোর কথা জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক তালিকায় এসব শর্তের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সবার আগে তাদের নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে। একই সঙ্গে সেখান থেকে সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। এছাড়া চলমান সংঘাতে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার দাবিও জানিয়েছে তেহরান।
এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ বাগের জোলঘাদর বলেন, এগুলো মূলত ইরানের জনগণের দাবি এবং গত ১৬০ দিন ধরে তারা এই দাবিগুলো জোরালোভাবে জানিয়ে আসছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমেরিকা তাদের আচরণ সংশোধন না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।
এর আগে গত শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি পরিচালনার বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি রয়েছে তেহরান। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়া আরও কিছু শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান শর্ত হলো—গত জুনে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।
এদিকে ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ইরান ও ওমানের মধ্যকার এই আলোচনাকে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ বলে অভিহিত করেছে। এর আগে গত শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওমানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য কাঠামোগত চুক্তির বিষয়ে দেশটির আইনপ্রণেতারা মোটামুটি একমত হয়েছেন। তবে চুক্তিটি চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।