
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত এক জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বর্তমান উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন। রবিবার দুপুরে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার কী হবে, সে সম্পর্কিত পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা সংসদে পেশ করা হবে।
কিছু মহল এই ইস্যু নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কারো কোনো পরিকল্পনা থাকে, তবে তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করবেন না। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পার হওয়ার এই সময়ে দেশ গঠনে এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে গেছে, তাই আমাদেরও আর পেছনে পড়ে থাকার সুযোগ নেই।
তারেক রহমান বিগত স্বৈরাচারী আমলের সমালোচনা করে বলেন, তখন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে গুটিকয়েক ব্যক্তির স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল। বর্তমানে সেই ব্যবস্থাকে জনগণের স্বার্থে ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল ও শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং যানবাহনের জন্য গ্যাসের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া আনোয়ারায় চীনের বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, সেখানে কয়েকশ মিল-কারখানা স্থাপিত হবে, যা চট্টগ্রামের বেকার সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করবে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, যার মধ্যে বাঁশখালী উপজেলাতেই ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এই কার্ড পাবে। এছাড়া কৃষক কার্ডের পরিধি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, শুধু ফসল চাষি নয়, লবণচাষিরাও এখন থেকে কৃষক কার্ডের আওতায় আসবেন। লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে এবং শীঘ্রই এ বিষয়ে ঘোষণা আসবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। এছাড়া বাঁশখালী উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন তিনি।
সমাবেশে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম-১৩ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১৩ (চন্দনাইশ) আসনের এমপি মো. জসিম উদ্দিন, আনোয়ারার এমপি সাওয়াব জামান নিজাম, বান্দরবনের এমপি সাচিং প্রু জেরি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক লায়ন হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ও বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মাস্টার লোকমান, বৈলছড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইব্রাহিম বিন খালিল, এপিপি নাসির উদ্দিন এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবু আহমদসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।