
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ১৬তম বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি খসড়া আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এবং ‘ভিসা নীতিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া।
মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও নিশ্চিতকরণে একটি স্বাধীন ও কার্যকর কমিশন গঠনের লক্ষ্যে নতুন এই মানবাধিকার কমিশন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। জাতিসংঘ ঘোষিত সর্বজনীন মানবাধিকার সনদ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চুক্তির প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকট মোকাবিলায় এর আগে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সংসদে বিলটি উত্থাপন করা হলে সংসদীয় বিশেষ কমিটির সুপারিশ ও সরকারি আর্থিক দায়ভার বিবেচনায় নিয়ে এতে ১৮ক ধারা সংযোজন করে আইনটি পাস করা হয়। প্রচলিত রেজল্যুশন ব্যবস্থার পাশাপাশি বাজারভিত্তিক বিকল্প ব্যবস্থা চালু, ব্যাংক পুনর্গঠন, মূলধন ঘাটতি দূরীকরণ এবং আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে এই ধারাটি যুক্ত করা হয়েছিল। তবে এই ধারার সব শর্ত পরিপালন করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায়, ধারাটি বিলুপ্ত করার উদ্দেশ্যে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।
এছাড়া আধুনিক ও সেবামুখী অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘ভিসা নীতিমালা, ২০২৬’ চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন এই নীতিমালায় ভিসা ক্যাটাগরি ৩৩ থেকে বাড়িয়ে ৩৪টি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থান সহজ করা, বিদেশি বিনিয়োগ ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকে উৎসাহিত করা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার উদ্দেশ্যেই এই নীতিমালা যুগোপযোগী করা হয়েছে।
বিদ্যমান ভিসা পদ্ধতিকে যুগোপযোগী, নিরাপদ, গতিশীল ও সহজ করার উদ্দেশ্যে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। ‘ভিসা নীতিমালা, ২০০৬’-এ ভিসার ৩৩টি ক্যাটাগরি ছিল। নতুন নীতিমালায় ৩৪টি ভিসা ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা হয়েছে।