
আসন্ন শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়া বরাবরের মতোই মেধা ও পছন্দের ভিত্তিতে অনলাইনে পরিচালিত হবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ভর্তি কার্যক্রমে কোনো লটারি বা ভর্তি পরীক্ষা থাকছে না; বরং প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের জিপিএ এবং পছন্দক্রমের ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ দেওয়া হবে।
তবে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ায় কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে বড় ধরনের আসন সংকট তৈরির পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বোর্ডের তথ্যমতে, সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে প্রায় ২৫ লাখ আসন থাকলেও, পাসের হার কম হওয়ায় এবার প্রায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন শিক্ষার্থীশূন্য বা খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান ব্যাখ্যা করেন যে, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে খালি আসনের সংখ্যা আরও বাড়বে। গত বছর মোট আসনের ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল এবং ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ আসন খালি ছিল। এ বছর পাসের হার আরও কম হওয়ায় খালি আসনের হার বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক।
উল্লেখ্য, ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রায় সাত লাখ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ সব বোর্ডের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ভর্তি হলেও প্রায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন খালিই থেকে যাবে।
বর্তমানে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে বুয়েটের কারিগরি সহায়তায় এই ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাদে দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এই কেন্দ্রীয় পদ্ধতিতেই ভর্তি সম্পন্ন হয়। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তি প্রক্রিয়া অবশ্য পৃথকভাবে পরিচালিত হয়ে থাকে।