
প্রায় পাঁচ বছর ধরে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধ চলছে। এই সংঘাতকে আরও তীব্র করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করেছেন যে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রাশিয়া নতুন করে ৫ লাখ যোদ্ধা সমাবেশ করতে পারে। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে রাশিয়ার পার্লামেন্ট বা দুমা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এই সেনা সমাবেশ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে পুতিনের।
গত মাসে স্কাই নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জেলেনস্কি লিখেছিলেন, পুতিন এই যুদ্ধ থামাতে প্রস্তুত নন। জেলেনস্কির দাবি, রুশ প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে নতুন সেনা সমাবেশ করবেন না, কারণ তিনি নিজের সমাজকে ভয় পান। এছাড়া এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে দ্রুত প্রশিক্ষণ দেয়া রাশিয়ার পক্ষে সম্ভব হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, এর ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মানুষ পাঠানো হতে পারে, যার অর্থ দাঁড়াবে বিপুলসংখ্যক প্রাণহানি।
এদিকে, ইউক্রেন রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলা অব্যাহত রাখার মধ্যে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখানে পুতিন তার শেষ বিকল্প হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আনাদোলুর ‘এডিটরস ডেস্ক’ অনুষ্ঠানে ফিদান বলেন, যখন সম্মুখভাগের ক্ষয়যুদ্ধ পেছনের ভূখণ্ডেও ছড়িয়ে পড়ে, তখন প্রশ্ন আর যুদ্ধে হারবেন কিনা তা থাকে না; প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায় একটি জাতি হিসেবে টিকে থাকা যায় কিনা। তখন হাতে থাকা শেষ অবলম্বনটিই ব্যবহার করতে হয়। তিনি পরিস্থিতিটিকে বিপজ্জনক হিসেবে উল্লেখ করে জানান, বিষয়টি পশ্চিমা অংশীদারদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। রাশিয়া সফরের সময় তার মনে হয়েছিল বিষয়টি সামনে আসতে পারে, কারণ জনগণ এ ধরনের পদক্ষেপের দাবি করছে বলে শোনা যাচ্ছিল।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশই দূরপাল্লার হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে, যার ফলে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বেড়েছে। সোমবার মধ্য রাশিয়ার তাতারস্তান অঞ্চলে ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন, যা যুদ্ধের শুরু থেকে ইউক্রেনের চালানো সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি। একই দিনে ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের একটি গ্রামে রুশ গোলাবর্ষণে পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর ইউক্রেন থেকে ছোড়া ৪৫৬টি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে, তবে কতগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে তা জানায়নি। অন্যদিকে, ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর হামলায় রাশিয়া ১২৬টি ড্রোন ব্যবহার করেছে।