
পাবনার ঈশ্বরদীতে স্কুল শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে এবং পরমাণু শক্তি সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘পারমাণবিক বিজ্ঞান শিক্ষা কর্মসূচি এবং ভ্রাম্যমাণ বিজ্ঞান জাদুঘর প্রদর্শনী’। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের সহযোগিতায় গত ১৩ ও ১৪ আগস্ট উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এবারের আয়োজনে ঈশ্বরদীর ইক্ষু গবেষণা উচ্চ বিদ্যালয়, আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিলস উচ্চ বিদ্যালয়, মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং জামিয়াতুল কুরআনুল কারীম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের ভ্রাম্যমাণ বাস ‘মিউজুবাস’-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে নানারকম ইন্টারঅ্যাকটিভ বৈজ্ঞানিক প্রদর্শনী তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পারমাণবিক শক্তি, বিকিরণ ও এর শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেন।
এই কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং পরমাণু বিজ্ঞানবিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা। যেখানে শিক্ষার্থীরা সরাসরি অংশ নিয়ে পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়। আয়োজনের লক্ষ্য সম্পর্কে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের বৈজ্ঞানিক তথ্য বিভাগের পরিচালক ড. আনন্দ কুমার দাস জানান, শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং রূপপুর প্রকল্প নিয়ে সঠিক তথ্য দেওয়াই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, মিউজুবাসের বিজ্ঞান প্রদর্শনী ও কুইজের মতো বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের আনন্দদায়ক উপায়ে বিজ্ঞান শেখার সুযোগ করে দিয়েছে।
রূপপুর প্রকল্পের ফোকাল পয়েন্ট ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক তথ্য কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ বলেন, শিক্ষাজীবনের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের কাছে সঠিক ও তথ্যভিত্তিক ধারণা পৌঁছানো জরুরি। এ ধরনের অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের কৌতূহল বাড়ানোর পাশাপাশি পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়ে সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করতে সাহায্য করবে। অনুষ্ঠানে পরমাণু শক্তি কমিশনের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আছমা বেগম, ঊর্ধ্বতন গ্রন্থাগারিক মারুফ হোসেন, প্রকল্পের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ ইকবাল হাসানী এবং বিজ্ঞান জাদুঘরের প্রধান ডিসপ্লে কর্মকর্তা সৈকত সরকারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।