
দক্ষিণ ইংল্যান্ডের ইস্ট সাসেক্সের লুইসের কাছে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবারের এই দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে দুজনকে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি ১৬ জনের আঘাত তুলনামূলক কম। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পরপরই বিপুলসংখ্যক অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ এবং দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল ইয়ান ড্রামন্ড-স্মিথ জানিয়েছেন, ঘটনাটিকে একটি ‘বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। লন্ডন ভিক্টোরিয়া থেকে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী নিয়ে ট্রেনটি ইস্টবোর্নের দিকে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর ট্রেনের শেষ তিনটি বগি লাইন থেকে ছিটকে পড়ে কাত হয়ে যায়, যার ফলে যাত্রীরা ভেতরে আটকা পড়েন। উদ্ধারকারীরা সফলভাবে সব যাত্রীকে নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছেন। যেসব যাত্রীর হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি, তাদের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সাময়িক আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ট্রেনে থাকা ৫৬ বছর বয়সী মার্কিন যাত্রী ইয়ানা লুডভিগ এই ঘটনাকে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, হঠাৎ বিকট শব্দের পরপরই সবকিছু ওলটপালট হয়ে যায় এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বগিটি কাত হয়ে পড়ে। ইস্ট সাসেক্স ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস উদ্ধার অভিযানে ১০টি ফায়ার ইঞ্জিন, একটি কমান্ড সাপোর্ট ইউনিট, কারিগরি উদ্ধারকারী দল এবং অন্যান্য বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করেছে। দমকলকর্মীরা আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনতে কাজ করেছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ঘটনাস্থল এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত জরুরি পরিষেবার কর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং যাত্রীদের সহায়তায় রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে দ্রুত কাজ করার কথা বলেন। রেল অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চ ইতোমধ্যে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তকারী দল পাঠিয়েছে এবং প্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।
নেটওয়ার্ক রেলের সাসেক্স রুটের পরিচালক লুসি ম্যাকঅলিফ জানিয়েছেন, হোয়ার্ড হিথ ও লুইসের মধ্যকার রেলপথ কিছু সময় বন্ধ থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞ দলগুলো দুর্ঘটনার পর রেলপথের অবস্থা পরীক্ষা করছে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনই মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে কী ঘটেছে তা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
দুর্ঘটনার সময় দক্ষিণ ইংল্যান্ডে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছিল, যেখানে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল। প্রচণ্ড গরমের কারণে দেশটির বিভিন্ন রুটে কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয় এবং কিছু ট্রেনকে কম গতিতে চলতে বলা হয়। উচ্চ তাপমাত্রায় রেললাইন প্রসারিত হয়ে বেঁকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে আগে সতর্ক করেছিল নেটওয়ার্ক রেল। তবে বৃহস্পতিবারের দুর্ঘটনার সঙ্গে তাপপ্রবাহের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন টিএসএসএ দুর্ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, এত বিপুলসংখ্যক যাত্রী জড়িত থাকায় তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। সাউদার্ন রেল জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দল ও প্রকৌশলীদের নিরাপদে কাজ করার সুযোগ দিতে লুইস স্টেশনের সব রেললাইন বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের ওই পথে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দুই মাসের মধ্যে যুক্তরাজ্যে এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনা। এর আগে জুনে দক্ষিণ-মধ্য ইংল্যান্ডের বেডফোর্ডের কাছে দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছিলেন।