
কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বুধবার বেলা তিনটায় এই সরবরাহ বন্ধের পর দেশজুড়ে চলমান গ্যাস সংকট আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। নতুন কোনো কার্গো না থাকায় গত তিন দিন ধরে এই টার্মিনাল থেকে সরবরাহ ক্রমাগত কমছিল, যা অবশেষে শূন্যে নেমে এসেছে।
পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কম মূল্যে এলএনজি আমদানির জন্য বেশ কিছু কার্গোর ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছিল। চলতি মাসেই এমন চারটি কার্গো আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও এসে পৌঁছায়নি। সরাসরি ক্রয়পদ্ধতির এই কার্গোগুলো না আসায় টার্মিনাল প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও এলএনজি সরবরাহ করা যাচ্ছে না, যা সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
মহেশখালীতে আমদানিকৃত এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে—একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির এবং অন্যটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপের। গত ২১শে জুলাই এক অগ্নিকাণ্ডের পর এক্সিলারেটের টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে গত শনিবার তারা পুরোদমে সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হলেও নতুন কার্গো না আসায় পুরোনো মজুত থেকে আংশিক সরবরাহ শুরু করে। তবে সোমবার থেকে সেই সরবরাহ কমতে শুরু করে এবং বুধবার তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২৩-২৪শে আগস্টের দিকে এক্সিলারেটের জন্য নতুন কার্গো আসতে পারে। এর অর্থ হচ্ছে, আগামী আরও কয়েক দিন এই টার্মিনালটি বন্ধ থাকবে এবং গ্যাস সংকট আরও বাড়বে। তবে বৃহস্পতিবার একটি কার্গো আসার কথা রয়েছে, যা সামিটের টার্মিনালে যুক্ত হতে পারে। দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়, যার মধ্যে ১০৫ কোটি ঘনফুট আসে এলএনজি থেকে। এই এলএনজি মূলত এক্সিলারেট ও সামিটের টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্রিডের পাইপলাইনে যুক্ত হয়ে থাকে।