
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২) হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। রোববার রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাত ৯টার দিকে মরদেহগুলো নগরীর দখিগঞ্জ মহাশ্মশানে নেওয়া হয়। সেখানে চারজনকে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানোর পর পাশাপাশি চারটি চিতায় দাহ করা হয়। স্বজনদের মুখাগ্নিতে রাত ১১টার দিকে দাহকার্য শেষ হয়। এ সময় সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়, যা উপস্থিত লোকজনকে অশ্রুসিক্ত করে তোলে। পরিবারের বাইরের লোকজনও এ সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। চিতায় আগুন দেওয়ার সময় স্বজনরা নিহতদের নাম ধরে বিলাপ করছিলেন। কিছুক্ষণ পর শ্মশানে নেমে আসে নীরবতা। দাহকার্যের সঙ্গে যুক্ত একজন জানান, তার জীবনে এ ধরনের দৃশ্য কখনো দেখেননি। একই পরিবারের চারজনকে একসঙ্গে দাহ করা খুবই কষ্টের। দাহকাজ শেষে চিতায় পানি দিয়ে চারজনের অস্থি নিয়ে যান স্বজনরা। পরে আগুন পুরোপুরি নেভাতে শ্মশানের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের পাইপ দিয়ে ফের পানি দিতে দেখা যায়।
নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী আক্ষেপ করে বলেন, ভালো মানুষটার ছেলে-মেয়ে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল, যা মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল। খুনিরা পরিবারটির কাউকেই বাঁচতে দেয়নি। পাশাপাশি চারটি চিতা দাউ দাউ করে জ্বললেও আমার চোখে ঘোর অমানিশা কাটছে না।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর থেকে এই পরিবারের সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। স্বজনদের কাছ থেকে খবর পেয়ে শনিবার রাতে বাড়িতে গিয়ে পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে। এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুজনকে রোববার ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে জানান, পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে প্রবেশ করে ইয়াবা সেবনের সময় বাধা পেয়ে তারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। প্রথমে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে এবং পরে তার স্ত্রী ও সন্তানদের শ্বাসরোধে হত্যা করে বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে তারা। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে অভিযুক্ত দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।