
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নতুন অস্থায়ী নৌপথ চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে ইরান ও ওমান। তবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গত জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা পর্যন্ত এই প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না। মঙ্গলবার তেহরানে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে কাজেম ঘারিবাবাদি জানান, প্রস্তাবিত অস্থায়ী নৌপথটির প্রস্থ হবে প্রায় ৭ মাইল বা ১১ দশমিক ৩ কিলোমিটার। এই পথের প্রবেশপথ এবং বের হওয়ার পথের একটি অংশ ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্য দিয়ে যাবে। এর আগে তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি এই অস্থায়ী রুট এবং হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) আশা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুতই দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই নৌপথের ঘোষণা দিতে পারবে। দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে এই প্রণালির দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী ব্যবস্থাপনার জন্য প্রযুক্তিগত আলোচনা করা হবে। এর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান, নৌ চলাচল ও নিরাপত্তা পরিষেবার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরেই উত্তপ্ত। তেহরান এই প্রণালি বন্ধ করার পর, ১৯৬৮ সালের আন্তর্জাতিক ট্রাফিক রুটের পরিবর্তে নিজেদের আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে নতুন পথ চালুর ঘোষণা দিয়েছিল আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও)। তবে ইরানের দাবি ছিল, ওই পথে মাইন পেতে রাখা হয়েছে।
পরবর্তীতে জুনে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হলে ওমান ও আইএমও ওমানের উপকূলঘেঁষা একটি নতুন নৌপথের ঘোষণা দেয়। কিন্তু ইরান এটিকে সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন বলে দাবি করে এবং ওই পথে চলাচলকারী জাহাজে হামলার পর অন্তর্বর্তী চুক্তিটি ভেঙে পড়ে। এরপর বৃহত্তর শান্তিচুক্তির জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থমকে যায় এবং হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনও ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।
গত মঙ্গলবারই প্রণালির প্রবেশমুখের কাছে ওমানের আশ শিসাহ এলাকায় একটি তেলবাহী ট্যাংকার অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে অচল হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে বৃটেনের সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা। এমন পরিস্থিতিতে ওমানের সঙ্গে নতুন নৌপথ নিয়ে সমঝোতা হলেও একে প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে না তেহরান।
এছাড়া হরমুজের আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে সব মাইন অপসারণ করা হয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তাও প্রত্যাখ্যান করেছেন ঘারিবাবাদি। ট্রাম্পের এই দাবিকে বাজার শান্ত করার চেষ্টা আখ্যা দিয়ে তিনি সতর্ক করেন, মার্কিন মাইন শনাক্তকারী জাহাজগুলো এই এলাকায় প্রবেশ করলে তা সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।