
চাঁদপুর শহরের এস কে শিল্পালয় নামের স্বর্ণের দোকানের মালিক পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যদের কোনো খোঁজ মিলছে না। গত কয়েকদিন ধরে পিন্টু দাস, তার স্ত্রী রিমি এবং দুই ছেলে প্রিয়ম ও রুপম দাস নিখোঁজ রয়েছেন। এই ঘটনায় বন্ধক রাখা স্বর্ণের মালিকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। পিন্টু দাস ও তার পরিবার আত্মগোপন করেছেন নাকি নিখোঁজ হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পিন্টু দাসের নিকটাত্মীয় এবং চাঁদপুর শহরের গুয়াখোলা রোডের বাসিন্দা উপমা দে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পিন্টু দাস স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে টাকার বিনিময়ে স্বর্ণ বন্ধক রাখার ব্যবসা করতেন। তিনি বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক নিয়ে টাকা দিতেন, কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সেই স্বর্ণ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নেওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে ছিলেন বলেও জানা গেছে।
সর্বশেষ তিনি শহরের কুমিল্লা সড়কের আখন্দ মার্কেটের নিচতলায় ব্যবসা পরিচালনা করতেন। রঘুনাথপুরের বাসিন্দা রাসেল খান জানান, তিনি আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন। পরে টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণ নিতে গেলে পিন্টু দাস তাকে পরদিন আসতে বলেন। এরপর থেকেই পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। জাহিদুল ইসলাম ও শুভঙ্কর মজুমদার নামে আরও দুই ব্যক্তিও একইভাবে তাদের বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত না পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন রাসেল খান। তবে পিন্টু দাসের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়নি। চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফেরদৌস জানান, তারা আত্মগোপনে থাকলে খুঁজে পাওয়া কঠিন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করা হবে। পিন্টু দাসের মূল বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় এবং তিনি পাঁচ-ছয় মাস আগে আখন্দ মার্কেটে দোকান ভাড়া নিয়েছিলেন।
এরপর তিনি জানতে পারেন, পিন্টু দাস পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আর বাসায় নেই।রাসেল খান আরও জানান, এ ঘটনায় তিনি চাঁদপুর সদর মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন।দক্ষিণ গুণরাজদীর বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রাখার দাবি করেছেন।