
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে কমপক্ষে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। অনলাইন বিবিসি স্থানীয় পুলিশের তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সর্বশেষ হিসাবে এই সংখ্যা ছিল ৫৭৯। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষদের হাত বা পা দেখে শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন এবং বিভিন্ন কৌশলে শক্ত পাথুরে মাটির ভেতর থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করছেন।
নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে এখনো ১ হাজার ৯২৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের তালিকায় কমপক্ষে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিকও অন্তর্ভুক্ত। তবে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের তথ্যের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য থাকায় পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। তিব্বতে ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষের কারণে সৃষ্ট একটি হ্রদের পানির স্তর আবারও বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্বিতীয় দফায় কাদা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
নেপাল ও তিব্বতের মধ্যকার প্রধান স্থলসীমান্ত গিয়েরং বন্দর এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোন ব্যবহার করছে কমান্ড টিম। পাহাড়ের ঢালগুলোতে পর্যবেক্ষণ পোস্ট স্থাপন করা হয়েছে যাতে উদ্ধারকারীদের আগাম সতর্ক করা যায়। আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে থাকায় উদ্ধারকারী দলগুলো জীবিতদের সন্ধানে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে এবং একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালুর কাজও চলমান রয়েছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশের সরকার জরুরি সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ ত্রাণসামগ্রী অথবা আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। জাতিসংঘের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বর্তমানে নেপালে দশ হাজারেরও বেশি পরিবারের জন্য খাবার ও জরুরি পানীয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।