
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (2026) তারিখে প্রকাশিত এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নবম জাতীয় পে-স্কেলে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া এবং তুলনামূলকভাবে কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের আর্থিক স্বস্তি দিতে নিট পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হচ্ছে। তবে সবার পেনশন একই হারে বাড়ছে না; যারা কম পেনশন পান তাদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার বেশি এবং বেশি পেনশনধারীদের ক্ষেত্রে এই হার তুলনামূলকভাবে কম নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পেনশন বৃদ্ধির এই হারকে মোট পাঁচটি স্তরে বিন্যস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে যারা ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাচ্ছেন, তাদের পেনশন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। ফলে ৯ হাজার টাকা পেনশনভোগীরা এখন থেকে ১৮ হাজার টাকা পাবেন। এছাড়া ৯,০০১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনধারীদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পাবে ৭৫ শতাংশ, যার ফলে ২০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা পাবেন ৩৫ হাজার টাকা।
একইভাবে ২০,০০১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনধারীদের ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩০ হাজার টাকার পেনশন দাঁড়াবে ৪৯ হাজার ৫০০ টাকায়। ৩০,০০১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনধারীদের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪০ হাজার টাকার পেনশন হবে ৬৪ হাজার টাকা। আর যাদের নিট পেনশন ৪০,০০১ টাকা বা তার বেশি, তাদের ক্ষেত্রে পেনশন বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ শতাংশ। তবে প্রকৃত পেনশন নির্ধারণের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত নিয়ম, নির্ধারিত সীমা ও অবসর-পরবর্তী অন্যান্য সুবিধাসমূহ বিবেচনা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে থাকা বহুল আলোচিত ‘এক পদ এক পেনশন’ বা ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ (ওআরওপি) নীতি এখনই পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। একই পদ বা গ্রেড থেকে বিভিন্ন সময়ে অবসরে যাওয়া কর্মচারীদের মধ্যে পেনশনের বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে এই নীতি প্রণয়ন করা হলেও, বিপুল আর্থিক সংশ্লেষ এবং প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতির কারণে এটি বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।
এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই একই সময়ে ওআরওপি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তবে বর্তমানে এটি একবারে চালু করতে গেলে বিশাল অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হবে। এছাড়া ২০১৯ সালের আগে অবসরে যাওয়া বেসামরিক কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত না থাকায় এটি একবারে চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণেই ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।