
নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে ভোলার ইলিশা ঘাট পর্যন্ত নতুন ফেরি সার্ভিস আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ ও ভোলার মধ্যে নৌপথে যোগাযোগের একটি নতুন দুয়ার উন্মোচিত হলো। গত মঙ্গলবার বিকেলে সড়ক পরিবহন, সেতু ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম কাঁচপুর সেতুর নিচে এই ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনের পর মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টায় ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ নামের ফেরিটি ১২টি বড় মালবাহী ট্রাক ও দুটি ছোট গাড়ি নিয়ে কাঁচপুর থেকে ইলিশার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফেরিটি ইলিশা ঘাটে পৌঁছায়। বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, এই নৌপথে ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ও ‘বেগম রোকেয়া’—এই দুটি ফেরি চলাচল করবে। প্রতিদিন দুই প্রান্ত থেকে একটি করে ফেরি ছাড়বে এবং প্রতিটি পারাপারে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় ব্যয় হবে।
নতুন এই রুটে বড় মালবাহী ট্রাকের ভাড়া সাড়ে ১২ হাজার টাকা, মিনি ট্রাকের ৯ হাজার টাকা, ব্যক্তিগত গাড়ির ৫ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেলের ভাড়া ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্রাকচালকদের মতে, সড়কপথের যানজট ও চাঁদাবাজির হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে এই ফেরি সার্ভিস বিশেষ সহায়ক হবে। এছাড়া পণ্যবাহী গাড়িতে করে দিনে ভোলায় গিয়ে রাতে ফেরার সুযোগ তৈরি হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও আশাবাদী।
এই নৌপথ চালু হওয়ার ফলে ভোলার মাছ ও কৃষিপণ্য সরাসরি ঢাকাসহ বড় বাজারে পৌঁছানো সহজ হবে। পাশাপাশি চিকিৎসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য ভোলার মানুষের যাতায়াত ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশল বিভাগ এই নৌপথের ব্যয় হিসাব করছে।
সড়ক পরিবহন, সেতু ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ভোলার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের স্থায়ী সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে তিনটি সেতু ও সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যা বাস্তবায়ন হতে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। ততদিন পর্যন্ত এই ফেরি সার্ভিসই ভোলার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হবে। নৌপথে চাহিদা বাড়লে ভবিষ্যতে ফেরির সংখ্যা বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি।