
জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬-এর আওতায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এই বিধান অনুযায়ী, কোনো কর্মচারী উচ্চতর পদ ও পে স্কেলে পদোন্নতি পেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই পদের পূর্ণ বেতন পাবেন না। পূর্ণ বেতন প্রাপ্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে নির্ধারিত ন্যূনতম চাকরির মেয়াদ পূর্ণ করতে হবে। গ্রেডভেদে এই মেয়াদের সময়সীমা চার বছর থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন পে-স্কেলের ‘পদের পূর্ণ বেতন প্রাপ্তির শর্তাবলি’ সংক্রান্ত বিধানে বলা হয়েছে, গ্রেড যত উঁচু হবে, পূর্ণ বেতন পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় চাকরির মেয়াদও তত বেশি হবে। গেজেটের সারণি অনুযায়ী, গ্রেড-১-এ পদোন্নতি পাওয়া কর্মচারীদের ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা স্কেলের পূর্ণ বেতন পেতে হলে ন্যূনতম ২০ বছর চাকরি করতে হবে।
অন্যান্য গ্রেডের ক্ষেত্রে পূর্ণ বেতন প্রাপ্তির সময়সীমা নিম্নরূপ: গ্রেড-২-এর জন্য (বেতনস্কেল ১ লাখ ৩২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা) প্রয়োজন ১৭ বছর; গ্রেড-৩-এ (বেতনস্কেল ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা) পূর্ণ বেতন পেতে ১৪ বছর; গ্রেড-৪-এ (বেতনস্কেল ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা) ১২ বছর; গ্রেড-৫-এ (বেতনস্কেল ৮৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা) ১০ বছর; গ্রেড-৬-এ (বেতনস্কেল ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা) পাঁচ বছর এবং গ্রেড-৭-এর (বেতনস্কেল ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টাকা) জন্য ন্যূনতম চার বছর চাকরির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬-এর আওতায় গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৭ পর্যন্ত উচ্চতর পদে পদোন্নতি পাওয়া কর্মচারীদের ক্ষেত্রে চাকরির মেয়াদকে পূর্ণ বেতন পাওয়ার আবশ্যিক শর্ত হিসেবে গণ্য করা হবে। এই নতুন বিধানের ফলে পদোন্নতির পর একজন কর্মচারী ঠিক কখন থেকে ওই পদের পূর্ণ বেতন পাবেন, তা তার চাকরির মেয়াদের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।