
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। এটি নিছক আইফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর উদ্দেশ্য রয়েছে—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান। আজ শনিবার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি এ তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের একাধিক তদন্ত দল মাঠে কাজ করছে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গেছে। কী কারণে এই ছোট শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। এটি কি শুধু একটি আইফোনের জন্য, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে—তাও তদন্ত করে দেখা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকের ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ঘটনাটি আমাদের অন্তরকে নাড়া দিয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা না হচ্ছে, ততক্ষণ আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব।’
এদিকে, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার চেয়ে আজ বিকেল ৫টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এ সময় তারা হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করা না হলে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করবেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে মায়ের মোবাইল ফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ প্রশাসন বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধানে খোঁজাখুঁজি করেন। এ ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।