
সৌদি আরবের লোহিত সাগরে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনে হামলার ঘটনার পর, সৌদি আরামকো জানিয়েছে যে তারা অক্টোবর মাসে ইউরোপের অন্তত দুটি তেল শোধনাগারকে কোনো অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করবে না। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সাধারণত ইউরোপের ক্রেতারা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির অধীনে সৌদি আরব থেকে তেল আমদানি করে থাকে, যেখানে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সরবরাহের নিশ্চয়তা থাকে। তবে আগামী মাসে এই সরবরাহ বন্ধ থাকবে এবং এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের সকল ক্রেতার ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। যদিও ব্লুমবার্গের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ করা হলেও সৌদি আরামকো তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
গত সপ্তাহে হুতি বিদ্রোহীদের ড্রোন হামলার মুখে পড়ে সৌদি আরব তাদের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। সূত্র অনুযায়ী, পাইপলাইনটির আংশিক কার্যক্রম আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শুরু হতে পারে, তবে এটি পুরোপুরি সচল হতে প্রায় ছয় সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে।
উল্লেখ্য যে, ইউরোপের শোধনাগারগুলো সাধারণত মিশরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর সিদি কেরি থেকে সৌদি অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে, যা পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত। পাইপলাইন বন্ধ হওয়ার পর থেকে বেশ কিছু ক্রেতা বিকল্প সরবরাহের সন্ধানে নেমেছে। উদাহরণস্বরূপ, পোল্যান্ডের জ্বালানি কোম্পানি ওরলেন গত শুক্রবারের পর থেকে বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের জন্য ১০টিরও বেশি দরপত্র ডেকেছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে ওইসিডির অন্তর্ভুক্ত ইউরোপীয় দেশগুলো সৌদি আরব থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছিল।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান।