
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামের মসজিদের সামনের ফাঁকা জায়গায় গড়ে উঠেছে করলার এক জমজমাট পাইকারি বাজার। প্রায় ১৫ বছর ধরে পরিচিত এই কেন্দ্রটিতে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ মণ করলা কেনাবেচা হয়। কোনো সরকারি ইজারাভুক্ত হাট না হলেও, স্থানীয় কৃষকেরা জমি থেকে সরাসরি করলা তুলে এনে পাইকারি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষকেরা করলা বাছাই করে ব্যাগ ও ক্রেটে ভরছেন এবং পরিবহনের জন্য পাশে পিকআপ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, বর্তমানে পাঁচ-ছয়জন পাইকারি ক্রেতা বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত এই বাজারে সক্রিয় থাকেন। পরের দিন সকাল থেকেই এসব করলা পিকআপে করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, কৃষকদের জন্য এই বাজারটি অত্যন্ত সুবিধাজনক। বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামের পাশের নিকটতম চৌমুহনী হাটের দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার এবং ক্ষেতলাল পৌরসভার ইটাখোলা হাটের দূরত্ব প্রায় ছয় কিলোমিটার। গ্রামের ভেতরেই বাজার পাওয়ায় কৃষকদের পরিবহন খরচ সাশ্রয় হচ্ছে এবং সময়ও বাঁচছে। কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি প্রতি মণ করলা ২ হাজার ৪০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন, যা তাকে সাপ্তাহিক হাটের দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে দেয়নি।
বগুড়া শহরের পাইকারি ক্রেতা বাবু মণ্ডল নিয়মিত এখান থেকে করলা সংগ্রহ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা মুরশিদুল ইসলাম জানান, আশপাশের গ্রামের মাঠে করলার ব্যাপক চাষাবাদ হওয়ায় ১৫ বছর আগে পাইকারি ক্রেতারা এখানে আসা শুরু করেন। সময়ের সাথে সাথে কৃষকের সংখ্যা ও করলার উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় জায়গাটি একটি স্থায়ী পাইকারি কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ক্ষেতলাল উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মাসউদ পারভেজ জানান, পুরো উপজেলায় ৬০ হেক্টর জমিতে করলার আবাদ হয়েছে এবং এই বাজারে কৃষকেরা তাদের পণ্যের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন।