
আল্লাহর দরবারে হাত তুলে আকুতি জানানো ইবাদতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। তবে অনেক সময় দোয়ার সময় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও চোখে পানি আসে না, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা সংশয় দেখা দেয়। বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলেমদের মতে, দোয়ার মূল আত্মা হলো অন্তরের উপস্থিতি, ভয়, বিনয় এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা। চোখের পানি ঝরা একটি ভালো লক্ষণ হলেও, এটি দোয়া কবুল হওয়া বা ফজিলত পাওয়ার একমাত্র শর্ত নয়।
আলেমগণ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, কান্নাকাটি না হলেও দোয়ার ফজিলত কমে না। মানুষের শারীরিক ও মানসিক গঠন ভিন্ন হয়ে থাকে। কেউ সহজেই আবেগপ্রবণ হয়ে কাঁদেন, আবার কারও অন্তরে গভীর ভয় ও অনুশোচনা থাকলেও সহজে চোখে পানি আসে না। আল্লাহ তাআলা বান্দার বাহ্যিক কান্নার চেয়ে তার অন্তরের ইখলাস বা নিষ্ঠাকে বেশি প্রাধান্য দেন। মহানবী (সা.) বলেছেন, 'আল্লাহ তাআলা কোনো উদাসীন ও অসচেতন অন্তরের দোয়া কবুল করেন না।' অর্থাৎ, অন্তরের আকুলতা ও মনোযোগ থাকলেই সেই দোয়ার পূর্ণ ফজিলত পাওয়া সম্ভব।
ইসলামে দোয়া বা ইবাদতের সময় কান্নার চেষ্টা করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। যদি স্বাভাবিকভাবে কান্না না আসে, তবে কান্নার সুর করা বা কান্নার ভাব আনার চেষ্টা করাও একটি প্রশংসনীয় আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা কুরআন তিলাওয়াত করো এবং কাঁদো। আর যদি কান্না না আসে, তবে কান্নার ভান করো। বান্দা যখন আল্লাহর সামনে নিজেকে ছোট করে কান্নার চেষ্টা করে, আল্লাহ তাআলা সেই বিনয় ও চেষ্টাকেও পছন্দ করেন।
আল্লাহর ভয় ও তাঁর প্রতি গভীর ভালোবাসায় চোখের পানি আসা মুমিনের বিনয়ের প্রকাশ। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, 'তারা কাঁদতে কাঁদতে লুটিয়ে পড়ে এবং তা তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে।' হাদিসেও আল্লাহভীতিতে ঝরা অশ্রুর বিশেষ মর্যাদার কথা বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহর নিকট আল্লাহর ভয়ে নিঃসৃত অশ্রুফোঁটা অত্যন্ত প্রিয়। এছাড়া নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে কাঁদা ব্যক্তিকে কিয়ামতের দিন বিশেষ মর্যাদা পাওয়া সাত শ্রেণির মানুষের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে (সহিহ বুখারি: ৬৬০)। আল্লাহর পথে (জিহাদে) নির্গত রক্তের ফোঁটার মতো আল্লাহর ভয়ে ঝরা অশ্রুরও বিশেষ মর্যাদা রয়েছে (তিরমিজি: ১০৩১)। তবে এসব বর্ণনায় দোয়ার সময় কান্নাকে আবশ্যক করা হয়নি।
তাই চোখে পানি না আসায় নিজের দোয়াকে মূল্যহীন মনে করার কোনো কারণ নেই। আল্লাহ বলেন, 'তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।' (সুরা গাফির: ৬০) কেউ গভীরভাবে অনুতপ্ত হলেও কাঁদতে না পারলে হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের গুনাহ ও আল্লাহর মহত্ত্ব স্মরণ করে অন্তরকে নরম করার চেষ্টা করা যেতে পারে। মূল বিষয় হলো আন্তরিকতা, বিনয় এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা। চোখে পানি না এলেও মন থেকে দোয়া করা উচিত এবং কান্না এলে তা আল্লাহভীতি ও বিনয়ের প্রকাশ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা কাঁদতে কাঁদতে লুটিয়ে পড়ে এবং তা তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে।’ (সুরা ইসরা: ১০৯)হাদিসেও আল্লাহভীতিতে ঝরা অশ্রুর বিশেষ মর্যাদার কথা এসেছে।
আল্লাহর পথে (জিহাদে) নির্গত রক্তের ফোঁটা।’ (তিরমিজি: ১৬৬৯)আরেক হাদিসে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে কাঁদা ব্যক্তিকে কেয়ামতের দিন বিশেষ মর্যাদা পাওয়া সাত শ্রেণির মানুষের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তি, যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণের সময় তার দুই চোখ দিয়ে অশ্রুধারা বইতে থাকে।’ (সহিহ বুখারি: ৬৬০;