
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়া ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্যকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের এটিই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজিরবিহীন এই পদক্ষেপের ফলে প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ দলের সদস্যসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বেশ কয়েকজন সদস্য ভিসা পাননি। ইরানের মেহের বার্তা সংস্থাও প্রেসিডেন্টের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে একই খবর প্রকাশ করেছে। আগামী বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে 'তথ্য পাওয়ার অধিকার পদদলিত করার' অভিযোগ তুলেছেন। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে তিনটি বড় মার্কিন সংবাদমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন।
জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য ইরানি প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে গত বছরের মতোই তাদের ওপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিলাসপণ্যসহ নির্দিষ্ট কিছু পণ্য ক্রয় করতে পারবেন না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে রোববার সন্ধ্যায় তেহরান ত্যাগ করেছেন এবং তিনি কাতারে যাত্রাবিরতি করবেন। ইরান জানিয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহণের নৌপথ পুনরায় চালুর শর্ত জানিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান এই নৌপথ বন্ধের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে।