
পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে বিধানসভা নির্বাচন আয়োজনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ফেসবুক লাইভে এসে তিনি দাবি করেন, ২০২৫ সালে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) শুরুর পর যেসব রাজ্যে নির্বাচন হয়েছে, সেসব রাজ্যে পুরোনো ভোটার তালিকা ব্যবহার করে নতুন করে নির্বাচন দিতে হবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের মহাপরিচালক সীমা খান্নাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি তাদের ‘বিজেপির এজেন্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, সিইসি হিসেবে দায়িত্ব পালনের নৈতিক অধিকার জ্ঞানেশ কুমারের আর নেই এবং তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা উচিত। তার অভিযোগ, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন মিলে বাংলার বিধানসভা নির্বাচন লুট করেছে এবং এটি এখন প্রমাণিত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসআইআর চলাকালীন ভোটার তালিকা থেকে ৯২ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভোট গণনার দুই দিন আগে তৃণমূল কংগ্রেসের গণনা এজেন্টদের গ্রেপ্তার করা এবং কলকাতার আলিপুরে সংরক্ষিত ইভিএম রাখা ভবনের নির্দিষ্ট তলায় আগুন লাগার ঘটনাকে তিনি ‘সন্দেহজনক’ বলে অভিহিত করেন। মমতার দাবি, যে ভবনে ইভিএম রাখা ছিল, সেখানে প্রথম তিনটি তলা অক্ষত থাকলেও যে তলায় মেশিনগুলো ছিল, সেটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং এত বড় দুর্নীতি আগে কখনো হয়নি।
মমতা বলেন, ক্ষমতা দখলের জন্য বিজেপি বাংলা, বিহার ও হরিয়ানার নির্বাচন চুরি করেছে। তিনি বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, বাংলায় আবার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে দেখুক তারা জিততে পারে কি না। সিইসি পদে জ্ঞানেশ কুমার বহাল থাকা পর্যন্ত এই প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে বলে জানান মমতা। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন। এ সময় তিনি তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের এসআইআর-সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। মমতা জানান, রাহুল গান্ধী ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালও এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এবং বিরোধী নেতাদের সঙ্গে শিগগিরই বৈঠক হবে।
তবে মমতার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, বিষয়টি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সম্পর্কিত। কারও আপত্তি থাকলে তা নির্দিষ্ট ফোরামে জানানো উচিত। তিনি নির্বাচন কমিশনকে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেন। এদিকে, ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় মমতার ফেসবুক লাইভে বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, এতে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সুযোগ থাকে না। তিনি মমতাকে সংবাদ সম্মেলন করে তার অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানান।