
শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে সরকারের ব্যর্থতা দেশের শিল্প খাতকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে মন্তব্য করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এই অভিযোগ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশে পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকা সত্ত্বেও শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কেন ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতা-কর্মীদের লাঠিসোঁটা নিয়ে রাজপথে নামতে দেখা যাচ্ছে।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের দায়িত্ব নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতির খবরও পাওয়া গেছে। শ্রমিক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের নামে রাজনৈতিক কর্মীদের মাঠে নামানো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে এবং নতুন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করে বলে তিনি সতর্ক করেন। একই ধরনের ভুল অতীতে আওয়ামী লীগও করেছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গাজীপুরে শ্রমিক তৌফিক শেখের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, এই মৃত্যুর জন্য কারা দায়ী, শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় কারা জড়িত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছে কি না, তা তদন্ত করে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
মজুরি বোর্ড গঠন ও সরকারের উদ্যোগের বিলম্ব নিয়ে সমালোচনা করে মজিবুর রহমান বলেন, ১৫ অক্টোবর উদ্যোগ নেওয়া হলেও মজুরি বোর্ড গঠন করতে ১ নভেম্বর পর্যন্ত সময় লেগেছে এবং প্রথম সভা হয়েছে ৪ নভেম্বর। শ্রমিক অসন্তোষ বাড়তে থাকার সময় কার্যকর আলোচনা ও সমাধানের উদ্যোগ না নেওয়া সরকারের সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকের অধিকার ও পোশাকশিল্পের স্বার্থ পরস্পরবিরোধী নয়। শ্রমিককে ন্যায্য মজুরি দেওয়ার পাশাপাশি শিল্পের কর্মসংস্থান ও উৎপাদন সক্ষমতা রক্ষা করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্বাস ইসলাম খানও বক্তব্য দেন।