
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প স্টিফেন মিলারকে হোয়াইট হাউসের নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে মনোনীত করেছেন। আগামী সোমবার থেকে মিলার তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই নিয়োগের মাধ্যমে ট্রাম্প ডেমোক্রেট নিয়ন্ত্রিত নতুন কংগ্রেসের সাথে রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির শোচনীয় পরাজয়ের কয়েকদিনের মাথায় বর্তমান চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস পদত্যাগ করেন। সিএনএন ও বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের আধিপত্য হারানোর কারণে ট্রাম্প তার রাজনৈতিক দলের কৌশলের ওপর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ছিলেন। হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে, নির্বাচনের রাতে ট্রাম্প এই পরাজয়ের জন্য ওয়াইলসকে দায়ী করেছিলেন। এছাড়া ওয়াইলস বর্তমানে স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসার কারণে ব্যক্তিগতভাবে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। প্রথম নারী চিফ অব স্টাফ হিসেবে তিনি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের যে কোনো চিফ অব স্টাফের চেয়ে দীর্ঘসময় দায়িত্বে ছিলেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াইলস তার রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন এবং এই রদবদল নির্বাচনের ফলাফলের সাথে সম্পর্কিত নয়।
স্টিফেন মিলার ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রধান রূপকার হিসেবে পরিচিত। দায়িত্ব পালনকালে তিনি আইস কর্মকর্তাদের প্রতিদিন তিন হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার এই পদোন্নতির জন্য নেপথ্যে কাজ করেছেন বলে খবর রয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এক কর্মকর্তার মতে, এই নিয়োগের মাধ্যমে ট্রাম্প তার পুরনো রূপে ফিরে এসেছেন।
তবে মিলারের নিয়োগ ডেমোক্রেটদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। হাউস লিডার হেকিম জেফরিস তাকে বিপজ্জনক, বহিরাগত-বিদ্বেষী এবং চরমপন্থী হিসেবে অভিহিত করে সমালোচনা করেছেন। মিলারের অতীত কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত অ্যালেক্স প্রেটিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এবং ভেনিজুয়েলা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের নিন্দিত অভিযানের কারণে তাকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
রিপাবলিকান দলেও মিলারকে নিয়ে বিভক্তি রয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তার নিয়োগে সন্তোষ প্রকাশ করে তাকে 'কখনো পিছপা না হওয়া' ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সেনেটর মাইক লি তাকে 'রক্ষণশীল যোদ্ধা' হিসেবে প্রশংসা করলেও, সেনেটর থম টিলিস তাকে অযোগ্য আখ্যা দিয়েছেন। নতুন কংগ্রেসে আইন পাসের ক্ষেত্রে এই নিয়োগ বড় ধরনের সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।