
সিলেট টেস্টে এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরালেন তরুণ ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়ে অপরাজিত ২৪২ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। তাঁর এই অসাধারণ ব্যাটিংয়ের সুবাদে দিনশেষে বাংলাদেশ ৩০ রানের লিড পেয়েছে। দিনের শেষভাগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৭ রান তুলেছে, ফলে ২৩ রানে পিছিয়ে থেকে রবিবার চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করবে ক্যারিবীয়রা।
তৃতীয় দিনের সকালে বাংলাদেশ মাত্র ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল। তবে অষ্টম উইকেটে তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ১১৭ এবং নবম উইকেটে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে ৮৫ রানের দুটি অবিশ্বাস্য জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান হৃদয়। ৩৫৯ বল মোকাবিলা করে ২২টি চার ও ১১টি ছক্কায় ২৪২ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। এই ইনিংসের মাধ্যমে মুশফিকুর রহিমের ২১৯ রানের রেকর্ড টপকে টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের নতুন মালিক এখন হৃদয়।
বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে টেস্টে নিজের অভিষেক সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনি। এর আগে মুমিনুল হকের অভিষেক সেঞ্চুরিতে সর্বোচ্চ রান ছিল ১৮১। এছাড়া ২৯ রানে দিন শুরু করে একদিনে ২১৩ রান যোগ করেছেন হৃদয়, যা টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে যেকোনো এক দিনে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের রেকর্ড। তিনি ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিবের করা এক দিনে ২১২ রানের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন।
ম্যাচে ১১টি ছক্কা হাঁকিয়ে তামিম ইকবালের ৭টি ছক্কার রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছেন হৃদয়। তাঁর মোট রানের মধ্যে ১৫৪ রানই এসেছে বাউন্ডারি থেকে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এটি যেকোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড, যা মাহমুদুল হাসান জয়ের ১৭১ রানের ইনিংসকে পেছনে ফেলেছে। দলীয় ৭ উইকেটের পতনের পর শেষ তিন উইকেটে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ ২০২ রান যোগ করার রেকর্ড। তাইজুল ইসলাম ৫৬ বলে ২২ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে আউট হওয়ার আগে হৃদয়ের সঙ্গে রেকর্ড জুটি গড়েছিলেন। তাসকিন আহমেদ ১২ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত সঙ্গ দিয়েছেন হৃদয়কে। সাদমান ইসলাম গোড়ালির চোটের কারণে ব্যাটিংয়ে নামতে না পারায় ৩৮৬ রানে বাংলাদেশের ইনিংস থামে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিংয়ে জোমেল ওয়ারিক্যান ৪টি এবং জেইডেন সিলস ২টি উইকেট নিয়েছেন।