
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদানের জন্য ২ কোটি ডলার পর্যন্ত নগদ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির আওতায় এই পুরস্কার দেওয়া হবে। শুক্রবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানিয়েছে, তারা বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সরাসরি জড়িত গোপন স্থাপনা, সরঞ্জাম, বিজ্ঞানী, গবেষক বা অন্য যেকোনো ব্যক্তির বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট তথ্য আহ্বান করছে। তথ্যদাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিরাপত্তাবিষয়ক বাধ্যবাধকতা মেনে চলছে না। ফলে সংস্থাটি ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমে ঠিকমতো নজরদারি করতে পারছে না। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ তৈরি ও মজুত সম্পর্কে ধারাবাহিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ঠিক কী ধরনের তথ্য দিলে এই সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার পুরস্কার পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট শর্ত প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছে। ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা না চালালে ইসরায়েলের অস্তিত্ব সংকটে পড়ত। তিনি আরও দাবি করেন, আট মাসের যুদ্ধে ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক শক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে দেশটি এখন চুক্তিতে আগ্রহী। তবে এর আগে ট্রাম্প মধ্য ইরানের পিকঅ্যাক্স পর্বতসহ আরও কিছু লক্ষ্যবস্তু বাকি থাকার কথা বলেছিলেন, যেখানে পারমাণবিক স্থাপনা থাকার দাবি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র; যদিও ইরান তা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
অন্যদিকে, বর্তমান সংকট নিরসনে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। গত মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তাঁর সরকার এখনো আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য দিলে নগদ ২ কোটি ডলার (প্রায় ২৫০ কোটি টাকা) পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তথ্যের পাশাপাশি তথ্যদাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।