
কংগ্রেস পার্লামেন্টারি পার্টির চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী জানিয়েছেন, তার আসন্ন স্মৃতিকথা কোনো রাজনৈতিক বই নয়, বরং এটি তার ব্যক্তিগত জীবনের গল্প। ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’ শিরোনামের এই বইটি প্রকাশের আগে ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকায় লেখা এক নিবন্ধে তিনি এ কথা জানান। সোনিয়া বলেন, যে জায়গাটিকে একসময় তিনি নিজের বাড়ি বলে মনে করেছেন, এই বই মূলত সেই জায়গায় তার পথচলার গল্প।
সোনিয়া গান্ধী লিখেছেন, জীবনের বেশির ভাগ সময় তিনি নিজের ভেতরের জগৎটাকে ব্যক্তিগত রেখেছিলেন। রাজনীতিতে আসার পরও যতটা সম্ভব গোপনীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। জনজীবনের ব্যস্ততা থেকে সরে আসার পরই কেবল নিজের জীবনকাহিনি স্পষ্টভাবে দেখতে পেরেছেন তিনি। তার স্মৃতিকথার মূল উপজীব্য হলো ভালোবাসা এবং সেই ভালোবাসা থেকে জন্ম নেয়া আনুগত্য। ইংল্যান্ডে ১৯ বছর বয়সী ইতালীয় এক তরুণীর সঙ্গে এক তরুণ ভারতীয় শিক্ষার্থীর পরিচয় থেকেই এই যাত্রার শুরু।
তিনি আরও লিখেছেন, এই ভালোবাসাই তাকে অসহনীয় সময়ের মধ্য দিয়ে পথ দেখিয়েছে। শাশুড়ি ইন্দিরা গান্ধী এবং স্বামী রাজীব গান্ধীর বিয়োগান্তক ঘটনার শোক কাটিয়ে উঠতে তাকে সাহায্য করেছে স্বামীর প্রতি ভালোবাসা এবং ভারতের প্রতি টান। সোনিয়া বলেন, দায়িত্ববোধই তাকে জনজীবনে আসতে বাধ্য করেছে, যা ছিল তার স্বাভাবিক প্রবণতার বিপরীতে।
সাবেক এই কংগ্রেস সভাপতি বলেন, তিনি তার পরিবারকে সেভাবেই সততার সঙ্গে তুলে ধরতে চেয়েছেন, যেভাবে তিনি তাদের চিনেছেন ও ভালোবেসেছেন। পাঠকদের সঙ্গে তিনি গত পাঁচ দশকের ভারত দেখার অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নিয়েছেন। হার্পারকলিন্স ইন্ডিয়া প্রকাশিত এই বইটি আগামী ১০ই নভেম্বর ভারতে প্রকাশিত হচ্ছে। এর আগে পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়ার সঙ্গে প্রকাশনা নিয়ে অচলাবস্থার কারণে বইটির প্রকাশ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও নতুন প্রকাশকের মাধ্যমে তা কাটছে। বইটিতে সঞ্জয় গান্ধীর বিমান দুর্ঘটনা, ১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধী ও ১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের মতো ট্র্যাজেডির পাশাপাশি ২০০৪ সালের নির্বাচনে জয়ের পর তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের মতো রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহও উঠে এসেছে।