বিএনপি সরকারের পতনের বিষয়ে কর্নেল অলি আহমেদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। সোমবার ৩ আগস্ট মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কর্নেল অলি আহমেদের দিকে একাধিক অভিযোগের আঙুল তুলেছেন।
রাশেদ খান দাবি করেন, ১ সপ্তাহের মধ্যে বিএনপি সরকারের পতন ঘটানোর হুমকি দেওয়ার প্রেক্ষিতেই তিনি কর্নেল অলি ও গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট মাসুদ করিমের মধ্যকার সখ্যতা ও লেনদেনের বিষয়টি সামনে এনেছেন। তিনি আরও বলেন, এই সংবাদটি ইতোপূর্বে প্রথম আলোসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। এ সময় তিনি কর্নেল অলিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, তার যদি সৎ সাহস থাকে তবে তিনি যেন স্বীকার করেন যে মাসুদ করিমের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না।
পোস্টে রাশেদ খান অভিযোগ করেন যে, সমালোচনা সহ্য করতে না পেরে কর্নেল অলি তার বাবা-মাকে নিয়ে ‘ঘৃণ্য বক্তব্য’ দিয়েছেন। রাশেদ খানের ভাষ্যমতে, এরপর থেকে তিনি আর ন্যূনতম সম্মান পাওয়ার যোগ্য নন, তবুও তিনি তাকে সম্মান দিয়েই কথা বলছেন।
রাশেদ খান আরও লেখেন, ‘আপনি আমাকে ‘র’ বা মোসাদের এজেন্ট বলেছেন। কিন্তু এই বাংলাদেশে আমরা যখন আধিপত্যবিরোধী সংগ্রাম করতে গিয়ে মার খেয়েছি, মামলা খেয়েছি, তখন আপনি হাসিনার গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আপস করে বিরোধী দলের আন্দোলনকে ব্যর্থ করার ফাঁদে পা দিয়েছিলেন।’ তার দাবি, জামায়াতে ইসলামীর হাতে আসন তুলে দেওয়ার জন্য অলি আহমেদ বিএনপি থেকে বেশি আসন চেয়েছিলেন, যা বিএনপি তদন্ত করে বুঝতে পেরেছিল। অলি আহমেদ জামায়াত জোটে যোগ দিয়ে জামায়াতের হয়েই খেলছিলেন বলে রাশেদ খান দাবি করেন।
নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে রাশেদ খান বলেন, একজন শ্রমিকের সন্তান হয়েও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘জামায়াতে গেলে যে মানুষের হিতাহিতজ্ঞান থাকে না, আপনি তার নিকৃষ্ট ও বাস্তব উদাহরণ।’
তবে রাশেদ খানের উত্থাপিত এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে কর্নেল অলি আহমেদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি এবং এই অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।