পরিকল্পিত নগর হবে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর প্রকাশিত: ৯:০৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০২৬ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরকে একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। রোববার (৪ অক্টোবর) এলাকাটির চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এ কথা জানান। তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের বাসিন্দাদের মতো জঙ্গল সলিমপুরের মানুষের জন্য সব ধরনের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। একসময় ‘স্টেট উইদিন স্টেট’ হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় ৯ মার্চের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরেছে বলে জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন। বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সেখানে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ছয়টি সড়কের নির্মাণকাজ চলছে, যার ২৫ শতাংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে সরকারি সেবা প্রদান এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও নিরাপদ হবে। ৯ মার্চের পর এখানকার পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জনজীবন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি জানান, এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে ছয়টি সড়কের প্রায় ১৪ কিলোমিটার অংশ নির্মাণ করা হচ্ছে। জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ২৩টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য জায়গা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসক পরিদর্শনের সময় প্রস্তাবিত এসব স্থান এবং নির্মাণাধীন বিজিবি ক্যাম্পের কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বলেন, আমরা জঙ্গল সলিমপুরকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে চাই। এখানকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উন্নত নগরের প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। পরিদর্শনের সময় আলীনগর প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনসংক্রান্ত জটিলতার বিষয়ে জেলা প্রশাসক জানান, প্রাথমিকভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক মাসের বেতনের অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চালানো হবে। প্রয়োজন হলে বিদ্যালয়গুলোর দায়িত্ব সরকারিভাবে নেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এই শিক্ষার্থীরা আমাদের সমাজের প্রাণ। তাদের যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। শিক্ষকদের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এদিন দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ১০০টি স্কুলব্যাগ, ২০০টি ফলদ গাছের চারা এবং ক্রিকেট, ফুটবল ও ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন খেলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত হওয়া ও পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। এলাকাটি নিয়ে ছড়ানো ‘মিথ্যা প্রপাগান্ডা’র কড়া সমালোচনা করে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, এখানকার শিশুরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে, যা সেখানকার স্বাভাবিক পরিস্থিতিরই প্রমাণ। এছাড়া ৯ মার্চ প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরুর সময় বিদ্যালয় দুটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অবস্থানের জন্য জায়গা দিয়ে যে সহযোগিতা করেছিল, তার জন্য তিনি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। এসব দেখলে এলাকাটি সম্পর্কে অনেকের ধারণা বদলে যেত। পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ, জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন এবং সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। SHARES জাতীয় বিষয়: উন্নয়নচট্টগ্রামজঙ্গল সলিমপুরজেলা প্রশাসনসীতাকুণ্ড