মিরপুরে রাড্ডা সেন্টারে তাণ্ডব: এমপি মিষ্টির জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা প্রকাশিত: ৮:৩৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় পুলিশের কোনো সদস্যের দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা গাফিলতি থাকলেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত চিকিৎসাকেন্দ্রটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার এসব কথা জানান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ইতিমধ্যে শাহ আলী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে। থানার এত কাছে কীভাবে এই ধ্বংসযজ্ঞ চলল—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ঘটনাস্থল দেখে মনে হয়েছে এই তাণ্ডব আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টায় করা সম্ভব নয়, এতে বেশ সময় লেগেছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসলীলার স্পষ্ট আলামত রয়েছে এবং ল্যাবের অনেক দামি যন্ত্রপাতি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ডিএমপি কমিশনার আরও জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই মিরপুরের উপকমিশনারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় একজনের নাম উল্লেখসহ ২০০ থেকে ২৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত নামীয় আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ঘটনার সময় পুলিশের কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে এডিসি দারুসসালামকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবারের মধ্যেই এই কমিটিকে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এতে কারও গাফিলতি প্রমাণ হলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মুখোশধারী প্রায় ২৫০ জনের একটি দল হামলা চালায়। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার জানান, ‘সম্মাননা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর ব্যানারে এসে হামলাকারীরা প্রথমে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা পুরো কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয়দের প্রবেশে বাধা দেয়। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কেন্দ্রের একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবন ভেঙে গুঁড়ো করে দেওয়া হয় এবং পরে সেখানে দোকানদার সমিতির একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ডা. নাসরিন আখতারের অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকাদানের রেজিস্টার ও গুরুত্বপূর্ণ নথি, পরিবার পরিকল্পনার সরঞ্জাম, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও ভ্যাকসিন লুটে নেয়। এছাড়া প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, নগদ ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, জেনারেটর, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, স্টিলের আলমারি, ফাইল কেবিনেট, ল্যাবের মূল্যবান সরঞ্জাম, রিএজেন্ট, টিভি, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও প্রিন্টারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এই হামলায় সব মিলিয়ে আনুমানিক দেড় কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গত প্রায় ৫০ বছর ধরে সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এই কেন্দ্রটি মিরপুরের দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা, পরিবার পরিকল্পনা এবং শিশুদের টিকাদান সেবা দিয়ে আসছিল। এই নজিরবিহীন হামলার কারণে বর্তমানে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিসহ কেন্দ্রের সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ এবং দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা চালু করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, মামলায় হানিফ মিয়া নামের এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি এবং দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং মামলাটির তদন্ত চলছে। SHARES অন্যান্য বিষয়: ডিএমপি কমিশনারফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিমিরপুরে হামলারাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারলুটপাটশাহ আলী থানা