মাদকাসক্তি থেকে সেরে ওঠা মানেই নতুন জীবন: বিশেষজ্ঞরা প্রকাশিত: ৩:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০২৬ মাদক থেকে কেবল দূরে থাকাই মাদকাসক্তি থেকে সেরে ওঠার চূড়ান্ত ধাপ নয়। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও কর্মজীবনে পুনরায় ফিরে আসা, আত্মনির্ভরশীল হওয়া এবং পুনরায় মাদকে জড়িয়ে পড়া রোধে ধারাবাহিক চর্চার মাধ্যমেই পূর্ণাঙ্গ রিকভারি সম্ভব। মাদকনির্ভরতা একবারেই নিরাময়যোগ্য কোনো বিষয় নয়, তাই চিকিৎসার পরও নিয়মিত কাউন্সেলিং, আফটারকেয়ার এবং পরিবার ও সহকর্মীদের সহযোগিতার প্রয়োজন অপরিসীম। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের সভাকক্ষে 'রিকভারি ডে ২০২৬' উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা উঠে আসে। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ও ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব সাবসটেন্স ইউজ প্রফেশনালস (আইসাপ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে। সেপ্টেম্বর মাস বিশ্বব্যাপী 'রিকভারি মাস' হিসেবে পালিত হয় এবং এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল 'রিকভারি ইজ রিয়েল: রিস্টোরিং এভরি অ্যাসপেক্ট অব লাইফ' বা 'সেরে ওঠা বাস্তব: জীবনের প্রতিটি দিক পুনরুদ্ধার' অনুষ্ঠানে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও আইসাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. এম. এ. মোহিত কামাল বলেন, টেকসই রিকভারির জন্য চিকিৎসার পাশাপাশি ফ্যামিলি সাপোর্ট, পিয়ার সাপোর্ট, রিল্যাপ্স প্রিভেনশন এবং শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে 'নেশাখোর' বা অপমানজনক পরিচয়ে না ডেকে 'অসুস্থ মানুষ' হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, কলঙ্কের বদলে সহমর্মিতাই রিকভারির পথকে সহজ করে তোলে। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের পরিচালক এবং আইসাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাসুদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় জানান, বাংলাদেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ মাদক ব্যবহার করছেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। গবেষণায় দেখা যায়, মাদক ব্যবহারের সূচনা হচ্ছে অল্প বয়সে; ৩৩ শতাংশ ব্যবহারকারী ৮ থেকে ১৭ বছর এবং ৫৯ শতাংশ ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সে প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেন। প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারী মাদক সহজলভ্য হওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং ৬৯ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা বা পুনর্বাসন চান। অথচ মাত্র ১৩ শতাংশ এই সুবিধা পাচ্ছেন, যা দেশে মাদক চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ঘাটতিকে স্পষ্ট করে। বক্তারা মাদক সমস্যাকে কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে না দেখে জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা নীতিনির্ধারকদের কাছে জেলা পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট ও কাউন্সেলিং সেবা যুক্ত করা, পুনর্বাসন কেন্দ্রের মান নিয়ন্ত্রণ ও প্রশিক্ষিত জনবল বৃদ্ধির সুপারিশ করেন। অনুষ্ঠানে রাখি গাঙ্গুলীর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন সিনিয়র রিপোর্টার জামিউল আহ্সান শিপু, বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র 'আশ্রয়'র পরিচালক মো. শামীম খান, সেফ হোম মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক লুৎফর রহমান মানিক এবং 'উৎস' মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন চৌধুরী সুমন। SHARES জাতীয় বিষয়: জনস্বাস্থ্যঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনমাদকাসক্তিমানসিক স্বাস্থ্যরিকভারি