চট্টগ্রামকে তরুণবান্ধব আধুনিক নগরী গড়ার ঘোষণা মেয়র শাহাদাতের

প্রকাশিত: ২:৫৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০২৬

চট্টগ্রামকে আরও উন্মুক্ত, আধুনিক এবং তরুণবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে গাজী কে ডি ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘এসএসসি রিসেপশন-২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। মেয়র বলেন, তরুণ প্রজন্ম দেশের সম্পদ, তাই তাদের জন্য একটি বাসযোগ্য ও আধুনিক চট্টগ্রাম উপহার দেওয়া আমাদের প্রধান দায়িত্ব।

তিনি আরও যোগ করেন, তরুণরা যেন স্বচ্ছন্দে চলাফেরা, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চার সুযোগ পায়, সে অনুযায়ী নগর পরিকল্পনা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরীতে প্রথম সাইকেল ট্র্যাক তৈরির পাশাপাশি নতুন পার্ক, খেলার মাঠ এবং হাঁটার স্থান নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। মেয়রের মতে, এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া শিক্ষা ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা বৃত্তি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেছেন, শিক্ষা, খেলাধুলা, বিনোদন ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে তরুণদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশে কাজ করতে হবে। তোমরা যেন এই শহরে হাঁটতে পারো, খেলাধুলা করতে পারো, ঘুরতে পারো এবং নিজেদের সৃজনশীলতা বিকশিত করার সুযোগ পাও—সেই পরিবেশ তৈরি করা আমাদের দায়িত্ব।’। ঘরের পর্দার আড়ালে, আসবাবপত্রের পেছনে ও বিভিন্ন আড়ালযুক্ত স্থানে মশার উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকার পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।

নিজের অতীতের স্মৃতিচারণ করে মেয়র বলেন, ১৯৯১ সালে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। তৎকালীন সময়ে মাত্র আটটি মেডিকেল কলেজে অত্যন্ত সীমিত আসনের বিপরীতে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে তাকে ভর্তির সুযোগ পেতে হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও এটিই শেষ নয়। উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত জীবনে আরও কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে, যেখানে মেধার পাশাপাশি সততা ও দেশপ্রেম একান্ত প্রয়োজন। সামনে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেশে ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, দেশের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় প্রতিভাবানরা বিদেশে পাড়ি জমাতে বাধ্য হন। ভবিষ্যতের এমন সুযোগ তৈরির অঙ্গীকার করেন তিনি, যাতে মেধাবীরা নিজ দেশে থেকেই যোগ্যতার সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটাতে পারে। এ সময় তিনি ডেঙ্গু সচেতনতায় গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার্থীদের বাড়ির আশেপাশে পানি না জমানোর এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও গাজী কে ডি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, জীবনের দশ বছরের স্কুলজীবন শেষে তারা নতুন এক অধ্যায়ে পা রেখেছে। তিনি শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম ও সততার সঙ্গে নিজ নিজ পেশায় অবদান রেখে দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, সবকিছুর ঊর্ধ্বে বাংলাদেশ, আর এই দেশ গড়ার দায়িত্ব তরুণদেরই কাঁধে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এডিস মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়ায় এবং দিনের বেলায় এই মশা বেশি সক্রিয় থাকে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, বিএনপি নেতা ইয়াছিন চৌধুরী লিটন ও মো. কামরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মনিরুল ইসলাম ইউসুফ, জমির উদ্দিন, আইমান সাদিক, ডা. আনিসুল হোসেন বাবুল, ডা. এস এম সরোয়ার আলম, সাকিব কাদের চৌধুরী ও ডা. সামিউলসহ অনেকে। ইসমিতার সঞ্চালনায় এই আয়োজনে কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।