বজ্রপাতে বন্ধুর মৃত্যু দেখে ২১ হাজার তালবীজ রোপণ ছবুরের

প্রকাশিত: ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২৬

২০২১ সালের ১৫ অক্টোবর সমুদ্রসৈকতে ফুটবল খেলার সময় এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের গহিরা এলাকার বাসিন্দা আবদুল ছবুর। বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলার সময় বজ্রপাতে তাঁর ছেলের বন্ধুর মৃত্যু হয়, আর ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় তাঁর নিজের ছেলে। প্রায় ৪০ বছর বয়সী ছবুর সেই দৃশ্য দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এরপর থেকেই বজ্রপাতে মৃত্যুঝুঁকি কমাতে তিনি কিছু করার তাগিদ অনুভব করেন।

বজ্রপাত প্রতিরোধে তালগাছের কার্যকারিতা সম্পর্কে জানার পর তিনি নিজ উদ্যোগে তালবীজ রোপণের সিদ্ধান্ত নেন। গত বছর থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত তিনি নিজ খরচে ২১ হাজার তালবীজ রোপণ করেছেন। তাঁর লক্ষ্য মোট ৩০ হাজার তালবীজ লাগানো। এই কাজের জন্য তিনি চট্টগ্রাম শহরের ফলের আড়ত ও গাজীপুর জেলার নার্সারি থেকে প্রতি বীজ তিন থেকে পাঁচ টাকায় সংগ্রহ করেন।

গত রোববার রায়পুর এলাকার দোভাষী বাজার-বাইন্যার দিঘি সড়কে আটজন স্বেচ্ছাসেবীকে সঙ্গে নিয়ে তাঁকে তালবীজ রোপণ করতে দেখা যায়। ছবুর জানান, গত বছর ১৩ হাজার বীজ রোপণ করলেও নিয়ম না জানার কারণে অর্ধেক থেকে চারা গজায়নি। তবে এ বছর সঠিক নিয়ম মেনে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে তিনি আট হাজার বীজ রোপণ করেছেন। তিনি আরও জানান, তালগাছের পাশাপাশি এই বছর তিনি ঔষধি গাছ লাগানোরও পরিকল্পনা করেছেন। শুরুতে অনেকে নানা কথা বললেও এখন এলাকার কিশোর ও তরুণেরা তাঁকে সহায়তা করছে।

আনোয়ারা উপজেলা উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সরওয়ার আলম এই উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, তালগাছ বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক অলক পাল বলেন, তালগাছ প্রাকৃতিকভাবে বজ্রপাত নিরোধে সহায়ক। মূলত এর উচ্চতা ও গঠনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে বজ্রপাতের সময় এটি সুরক্ষা দেয়। এছাড়া আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিন উদ্দিন ছবুরের এই কাজকে অসাধারণ উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।