ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনগণের অংশগ্রহণ জরুরি: চসিক মেয়র প্রকাশিত: ৩:২৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০২৬ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে নগরীর ২২ নম্বর এনায়েত বাজার ওয়ার্ডে মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এই কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন স্থানে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়। এ সময় লার্ভিসাইড প্রয়োগ ও এডাল্টিসাইড ছিটানোর মাধ্যমে মশা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হয় এবং এলাকাবাসীকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এতে নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা ও মশার প্রজননও বাড়ে। কর্মসূচি পরিদর্শনকালে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শুধুমাত্র সিটি কর্পোরেশনের একক প্রচেষ্টায় ডেঙ্গু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এডিস মশা শ্রেণি-পেশা বা রাজনৈতিক মতাদর্শ বিবেচনা করে কামড়ায় না। তাই এই সংকট মোকাবিলায় নগরবাসীকে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হতে হবে। মেয়র মনে করেন, সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ঠেকানো কঠিন। মেয়র বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একার দায়িত্ব নয়। প্রধানমন্ত্রী, মেয়র কিংবা সিটি কর্পোরেশন এককভাবে এই সমস্যা সমাধান করতে পারবে না। জনগণকে সম্পৃক্ত করে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নগরীকে একটি নান্দনিক ও পর্যটনবান্ধব কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মেয়র বলেন, কেবল বড় স্থাপনা নির্মাণ করলেই চলবে না, শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যবাহী দীঘিগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা আবশ্যক। বিভিন্ন দীঘির পাড়ে জমে থাকা মাটি ও আবর্জনা পরিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসব এলাকায় ডাস্টবিন স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং নাগরিকদের জন্য বেঞ্চ বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে মানুষ সেখানে সুন্দর পরিবেশে সময় কাটাতে পারে। মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে একটি নান্দনিক ও পর্যটনবান্ধব নগরীতে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নগরীর বিভিন্ন দীঘি ও জলাশয় সংরক্ষণ করে সেগুলোর চারপাশে হাঁটার ব্যবস্থা, আলোকসজ্জা, ডাস্টবিন ও বসার স্থানসহ পরিবেশবান্ধব সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদের অভ্যাসে পরিবর্তনের তাগিদ দিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জলাশয়ে সরাসরি ময়লা, প্লাস্টিক ও পলিথিন ফেলা বন্ধ করতে হবে। পরিত্যক্ত ডাবের খোসা বা প্লাস্টিকের পাত্রে পানি জমলে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির আঙিনা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আশেপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। তিনি আরও জানান, চসিক নিয়মিত লার্ভিসাইড ও এডাল্টিসাইড স্প্রে অব্যাহত রেখেছে এবং সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করছে। ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চসিকের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে মেয়র জানান, মেমন হাসপাতালে একটি বিশেষ ‘ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্ট সেল’ খোলা হয়েছে। এখান থেকে বিনামূল্যে এনএস-১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড পরিদর্শনের পর শিশু রোগীদের জন্য সেখানে একটি পৃথক ইউনিট খোলার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবশেষে মেয়র নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, জ্বর হলেই আতঙ্কিত হওয়া যাবে না, বরং তিন দিনের বেশি জ্বর থাকলে দ্রুত পরীক্ষা করা উচিত। তিনি পুনরায় আহ্বান জানান, দল-মত নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিক যেন নিজ নিজ বাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গু নির্মূলে সহায়তা করেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামকে একটি স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। SHARES রাজনীতি বিষয়: চট্টগ্রামচসিকডা. শাহাদাত হোসেনডেঙ্গুমশক নিধন