অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগিয়েছেন হাসান মাহমুদ

প্রকাশিত: ৮:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২৬

মাঠের বাইরের শান্ত স্বভাব আর ফিল্ডিংয়ের সময় উদাসীন চাহনি দেখে অনেক সময় প্রশ্ন জাগে, হাসান মাহমুদ ক্রিকেটার নাকি কবি হতে চেয়েছিলেন? তবে একজন কবির গভীরতা যেমন তার কবিতায় ফুটে ওঠে, একজন পেসারের দক্ষতাও তেমনি তার শরীরী আগ্রাসনের চেয়ে বোলিংয়ে বেশি প্রকাশ পায়। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে ১১১ রানে ৯ উইকেট শিকার করে হাসান মাহমুদ নিজের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছেন। এটি দেশের বাইরে টেস্টের এক ম্যাচে বাংলাদেশের কোনো বোলারের সেরা বোলিং ফিগার।

২০২১ সালে হারারে টেস্টে ১৪৮ রানে ৯ উইকেট নিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ যে রেকর্ড গড়েছিলেন, তা এবার নিজের দখলে নিয়েছেন হাসান। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এই টেস্টের বিপর্যয়কে ‘ডারউইন ডিজাস্টার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, যার মূল কারিগর ছিলেন হাসান। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ৩ উইকেট তুলে নেন তিনি। ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে হাসান অবশ্য নিজের চেয়ে দলের অবদানকেই বড় করে দেখলেন।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে হাসান জানান, অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরু থেকেই পুরো দল প্রতিটি সেকেন্ডে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, “অনুশীলনে আমরা প্রতিদিন, প্রতিটি সেকেন্ডে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমাদের মাথায় শুধু এটিই ছিল—যা–ই ঘটুক না কেন, নিজের ওপর আস্থা রাখতে হবে ও প্রক্রিয়া মেনে চলতে হবে।”

ম্যাচ জয়ের কৃতিত্ব কেবল নিজের নয়, বরং দলীয় পরিকল্পনার বলে জানিয়েছেন এই পেসার। সতীর্থ ও কোচদের সাথে ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে মাঠের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছেন তারা। হাসানের ভাষায়, “আমাদের দলীয় পরিকল্পনা ছিল। সতীর্থ এবং কোচদের সঙ্গে বসে ভিডিও বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা করেছি যে আমাদের কী করা উচিত। মাঠে নেমে আমরা ঠিক সেটাই বাস্তবায়ন করেছি।”

অন্যান্য বোলারদের প্রশংসা করে হাসান বলেন, “সব বোলারই দারুণ ধৈর্য দেখিয়েছে। তারা সঠিক প্রক্রিয়া মেনে কেবল নির্দিষ্ট লাইন ও লেংথ বজায় রেখে বোলিং করেছে, যার সুফল আমরা পেয়েছি।” দেশে ফেরা নিয়ে উচ্ছ্বসিত হাসান বিশ্বাস করেন, তার এই পারফরম্যান্সে দেশের মানুষ ভীষণ খুশি এবং এলাকায় ফেরার পর উৎসবের আমেজ তৈরি হবে।

দ্বিতীয় ইনিংসে ৩টি উইকেট নেওয়ার পর অনেকেরই আশা ছিল, টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে এক ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি হয়তো হাসানই গড়বেন।

কিন্তু বেরসিক মিরাজ ৫ উইকেট নেওয়ায় এবং তাসকিন ও তাইজুল ১টি করে উইকেট নেওয়ায় ভাগে কম পড়ে যায় তাঁর।.তাতে অবশ্য হাসানের ম্যাচসেরা হওয়া ঠেকানো যায়নি।