রাশিয়ার তেল নিয়ে নতুন শুল্ক আরোপ করলে সম্পর্কে প্রভাব পড়তে পারে: ভারত

প্রকাশিত: ৯:৪১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করলে দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সতর্কবার্তা দিয়েছে। রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের পক্ষ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া এল।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে একটি বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক বিল পাস হয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষর করলেই তা আইনে পরিণত হবে। এই আইনের আওতায় চীন ও ভারতসহ অন্যান্য দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন ট্রাম্প। এর মূল উদ্দেশ্য হলো রুশ জ্বালানির ওপর এসব দেশের নির্ভরতা কমিয়ে আনা।

বিলটি পাস হওয়ার বিষয়টি নজরে এসেছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনায় নয়াদিল্লি বিষয়টি উত্থাপন করেছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এই বিলের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে তারা ওয়াশিংটনকে ‘খুব স্পষ্টভাবে’ অবহিত করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশের মানুষের জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন বিক্রেতার কাছ থেকে জ্বালানি সংগ্রহ অব্যাহত রাখবে নয়াদিল্লি।

মন্ত্রণালয় আরও স্পষ্ট করেছে যে নিজেদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় ভারত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই বিলের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার বাণিজ্য ও শিল্প খাতের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ ভারত রাশিয়ার অন্যতম বড় ক্রেতা। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারত মস্কোর কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে, যা রাশিয়ার বাজেট–ঘাটতি মেটাতে সহায়তা করছে বলে মনে করে ওয়াশিংটন।

নয়াদিল্লি বারবারই জানিয়েছে যে তাদের বিশাল জনসংখ্যা ও অর্থনীতির জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ প্রয়োজন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলো সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের জন্য রাশিয়ার তেলসহ সংগ্রহের ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে। শোধনাগারগুলোর আশঙ্কা, ট্রাম্প নতুন শুল্ক আরোপ করলে তেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে এমনিতেই সরবরাহ সীমিত, এখন রাশিয়ার সরবরাহ কমলে শোধনাগারগুলোর মুনাফায় বড় আঘাত আসবে। শোধনাগারগুলো চায় সরকার যেন ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিবর্তে কিছু ছাড় চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে এবং রুশ তেল আমদানির জন্য একটি কোটা নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়।

এদিকে ভারতীয় বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপের হুমকিকে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য কমানো এবং অসম বাণিজ্যচুক্তি চাপিয়ে দেওয়ার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, এই বিলের কারণে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। চলতি মাসের শেষ দিকে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিরের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যচুক্তির পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

নয়াদিল্লি আরও ভালো একটি চুক্তির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল চলতি মাসের শেষ দিকে জি২০-এর বাণিজ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন।