শার্শায় মাছের মড়কে ১৫.৫ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ ভিত্তিহীন

প্রকাশিত: ১১:০০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০২৬

যশোরের শার্শায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মৎস্যঘেরে সাড়ে ১৫ কোটি টাকার মাছ মারা যাওয়ার ঘটনাটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ। সোমবার সন্ধ্যায় যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। এই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত শুক্রবার রাত ১টার দিকে শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর-সোনামুখো বিলে এএফ মৎস্য খামারে মাছের মড়ক শুরু হয়। শনিবার সকালে ঘেরের পানিতে বিপুলসংখ্যক মৃত মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায়। ঘেরের মালিক আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেনের দাবি, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মাছের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহের যন্ত্র বা প্যাডেল হুইল অ্যারেটর চালানো সম্ভব হয়নি। এর সঙ্গে বৈরী আবহাওয়া যুক্ত হওয়ায় পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে যায় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিপুলসংখ্যক মাছ মারা যায়।

মালিকপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ২০০ বিঘা আয়তনের ওই ঘেরে প্রায় ৬০ লাখ পাবদা মাছ চাষ করা হয়েছিল। প্রতি ১৫টি মাছের ওজন এক কেজি ধরলে মোট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ হাজার মণ। বর্তমান বাজারমূল্য হিসেবে শুধু পাবদা মাছেরই প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। অন্যান্য প্রজাতির মাছসহ মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকা বলে তারা দাবি করেছেন। আলফাজুল হক আরও জানান, মাছের খাদ্যের জন্য বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নেওয়া প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তিনি স্বীকার করেন যে ঘেরে নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা না থাকাটা তাদের ভুল ছিল।

তবে বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, ঘটনার দিন মাত্র ৪০ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। একই বিতরণ লাইনে ১২টি মৎস্যঘের থাকলেও অন্যগুলোতে কোনো সমস্যা হয়নি। তাই লোডশেডিংয়ে মাছ মারা যাওয়ার অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে তারা মনে করছেন।

এদিকে, প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন নাভারণ সার্কেলের এএসপি, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, ওজোপাডিকো-১ নির্বাহী প্রকৌশলী এবং উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানিয়েছেন, তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ৪০ মিনিটের লোডশেডিংয়ে মাছের এমন মড়ক লাগার কথা নয়, তবে পানির ঘনত্ব কম থাকলে তা সম্ভব হতে পারে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান।

এদিকে, গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিনগত রাত ১টার দিকে শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর-সোনামুখো বিলে এএফ মৎস্য খামারে মাছের মড়ক (ঘেরে অক্সিজেনের অভাবে মাছের মৃত্যু) শুরু হয়। পরে শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে ঘেরের পানিতে বিপুলসংখ্যক মৃত মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায়।