অষ্টগ্রামে হাওরে মৃত গাঙ্গেয় শুশুক উদ্ধার, মাছ ভেবে খেলেন বাসিন্দারা প্রকাশিত: ৭:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২৬ কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের একটি হাওর থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বিলুপ্তপ্রায় একটি গাঙ্গেয় শুশুক। তবে প্রাণীটি আসলে কী, তা নিশ্চিত হওয়ার আগেই সেটিকে কেটে অন্তত ১০০ মানুষের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জেলেদের একাংশ ইতিমধ্যেই এই শুশুকের মাংস রান্না করে খেয়েছেন বলেও জানা গেছে। আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার ইকুরদিয়া ঘাটের কাছে এ ঘটনা ঘটে। বর্ষাকালে এই হাওরের পানি ধলেশ্বরী নদীর সঙ্গে মিশে এক হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বন্য প্রাণী গবেষক সীমান্ত দীপু প্রাণীটির ছবি দেখে নিশ্চিত করেছেন যে, এটি একটি গাঙ্গেয় শুশুক (বৈজ্ঞানিক নাম: প্লাটানিস্তা গ্যাঞ্জেটিকা)। বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে প্রায় বিলুপ্ত হতে চলা গাঙ্গেয় শুশুকের সবচেয়ে বড় বাসস্থান বাংলাদেশ হলেও বর্তমানে এরা বেশ সংকটে রয়েছে। নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ নদীতে এদের দেখা মিললেও বর্তমানে কেবল ১৪টি নদ-নদীতে এই ডলফিনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। স্থানীয় জেলেরা জানান, পশ্চিম অষ্টগ্রামের রংপুরহাটি গ্রামের কয়েকজন জেলে বৃহস্পতিবার রাতে হাওরে মাছ ধরতে যান। পরদিন শুক্রবার ভোরে তাঁরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর বাজারে মাছ বিক্রি করতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে সকাল নয়টার দিকে ইকুরদিয়া ঘাটের কাছে পানির নিচে বড় একটি প্রাণী ভাসতে দেখেন তাঁরা। নৌকা থামিয়ে পর্যবেক্ষণের পর জেলেরা বুঝতে পারেন প্রাণীটি মৃত। এরপর সেটিকে রশি দিয়ে বেঁধে তীরে নিয়ে আসা হয়। ডলফিন পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক মানুষ সেখানে ভিড় জমান। পরিমাপ করে দেখা যায়, প্রাণীটির ওজন প্রায় আড়াই মণ। এটি আসলে কী, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হলে একপর্যায়ে জেলেরা মাংস কেটে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কাটা শুরু হয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টায় তা শেষ হয়। এরপর বেলা দুইটার মধ্যে অন্তত এক শ মানুষের মাঝে সেই মাংস বিতরণ করা হয়। রংপুরহাটি গ্রামের জেলে নোয়াব মিয়া জানান, ২৩ বছর ধরে মাছ ধরলেও হাওরে এমন প্রাণী তিনি কখনো দেখেননি। তাই মৎস্য বিভাগকে বিষয়টি জানাতে হবে কি না, সে বিষয়ে তাঁর কোনো ধারণা ছিল না। তিনি বলেন, 'প্রথমে আমি দেখি। নৌকা থামাইতে কই। নাইমা দেখি মরা। পরে সবাই মিলে দড়ি দিয়ে বাইন্ধা তীরে নিয়ে আসি।' আরেক জেলে জুনায়েদ মিয়া বলেন, 'মাছ মনে কইরা ভাগ কইরা নিয়া গেছে। অনেকে রান্না কইরা খাইয়াও ফালাইছে। এখন খাওয়া যায় কি না, এইডা জাইনা লাভ নাই।' জেলেদের বর্ণনা অনুযায়ী, আড়াই মণ ওজনের ধূসর রঙের এই প্রাণীটির শরীর ছিল লম্বাটে, মাথার সামনের অংশ দীর্ঘ ও সরু এবং চওড়া পাখনার মতো অঙ্গ ছিল। কিশোরগঞ্জের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ছবি দেখে জানান, এটি মূলত একটি জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণী, মাছ নয়। দূষণ বা অন্য কোনো কারণে এটি স্বাভাবিক আবাসস্থল সাগর ও নদীর মোহনা থেকে উজানের দিকে চলে আসতে পারে এবং পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে বা নৌযানের আঘাতে মারা যেতে পারে। তবে জেলেরা শুশুকটির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখেননি। মৎস্য কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, শুশুকটি কেটে ফেলায় এখন আর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে পরীক্ষা-পরীক্ষা বা চূড়ান্ত শনাক্তকরণের সুযোগ নেই। মাংস খাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে শুশুকের মাংস খাওয়ার প্রচলন নেই এবং এ দেশের মানুষ এটি খাওয়ার প্রক্রিয়া জানে না। যারা ইতিমধ্যে এর মাংস খেয়ে ফেলেছেন, তাদের ক্ষেত্রে কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা হয় কি না, তা এখন অপেক্ষা করে দেখতে হবে। এখন খাওয়া যায় কি না, এইডা জাইনা লাভ নাই।’.পদ্মায় ধরা পড়া এক মণ ওজনের বিপন্ন শুশুক বিক্রি হলো ৭০০ টাকায়.প্রাণীটির ছবি কিশোরগঞ্জের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, দেখে মনে হচ্ছে গাঙ্গেয় শুশুক। SHARES জাতীয় বিষয়: অষ্টগ্রামকিশোরগঞ্জগাঙ্গেয় শুশুকডলফিনবন্য প্রাণী