তীব্র গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত পরিবহন খাত, বিপাকে সাড়ে তিন লাখ সিএনজি চালক

প্রকাশিত: ২:৩৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬

দেশে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে পরিবহন ব্যবস্থা ও জনজীবন। গত জুলাই মাসের শেষ দিক থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করা এখন চালকদের নিত্যদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির প্রভাব এবং অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার কারণে সৃষ্ট এই সংকটের ফলে দেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ সিএনজি অটোরিকশা চালকের পরিবার এখন চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না চালকেরা। মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম নামের এক সিএনজি অটোরিকশা চালক জানান, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর তিনি মাত্র ১০০ থেকে ১২০ টাকার (যা ১ মার্কিন ডলারেরও কম) গ্যাস পাচ্ছেন। গ্যাসের জন্য দিনের একটি বড় অংশ অপচয় হওয়ায় তার দৈনিক আয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

শহিদুল ইসলামের পরিবারে এখন চলছে চরম অনটন। তার স্ত্রী বিউটি বেগম আক্ষেপ করে বলেন, গত সাড়ে চার মাস ধরে তারা ঘরের ভাড়া দিতে পারছেন না। একদিকে বাড়িওয়ালার তাগাদা, অন্যদিকে নিজের অসুস্থতা সত্ত্বেও অর্থাভাবের কারণে চিকিৎসা করাতে না পেরে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

এই অপ্রত্যাশিত সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম। তিনি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের পর্যাপ্ত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে এমন সংকট অনাকাঙ্ক্ষিত। দেশে গ্যাসের বিশাল মজুদ থাকলেও তা উত্তোলনের জন্য প্রয়োজন ব্যাপক অনুসন্ধান ও খননকাজ। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে নতুন গ্যাস উৎস অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও বিনিয়োগের ঘাটতি এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, অবিলম্বে জ্বালানি খাতে কার্যকর উদ্যোগ ও বিকল্প গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা না হলে দেশের অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।