বর্জ্যের বিনিময়ে মিলছে নিত্যপণ্য: নতুন এক সামাজিক উদ্যোগ প্রকাশিত: ১২:০৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ পকেটে নগদ টাকা না থাকলেও এখন মিলছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। বাসাবাড়িতে জমে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন, পরিত্যক্ত কাগজ কিংবা পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য জমা দিয়েই ক্রেতারা সংগ্রহ করতে পারছেন চাল, ডাল, সয়াবিন তেল, লবণ, চিনি ও আলু। এমনকি মাছ, মুরগি, টুথব্রাশ, পেস্ট, গেঞ্জি ও স্কুল ব্যাগের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রীও পাওয়া যাচ্ছে এই বাজারে। ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ নামে পরিচিত এই উদ্যোগটি বর্তমানে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে দুটি, হাজারীবাগে দুটি এবং মিরপুরে একটি স্থানে পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি কামরাঙ্গীরচর আশরাফাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই অস্থায়ী বাজারে স্থানীয় নিম্ন আয়ের বাসিন্দাদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। সকাল থেকেই তারা বস্তা বা ঝুড়ি ভর্তি প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। বাজারের প্রবেশমুখেই বর্জ্য জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকরা সংগৃহীত প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, কাগজ ও কাচ ওজন অনুযায়ী যাচাই করে ক্রেতাদের টোকেন দিচ্ছেন। সেই টোকেন দিয়েই তারা পছন্দের নিত্যপণ্য সংগ্রহ করছেন। এই উদ্যোগে অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় বাসিন্দারা। রসুলপুর এলাকা থেকে আসা আজমলা বেগম বলেন, টানাটানির সংসারে বাজার করার টাকা নেই, কিন্তু ঘরের পরিত্যক্ত প্লাস্টিক দিয়ে খাবার পাওয়ার বিষয়টি তাদের জন্য বড় পাওয়া। তোফাজ্জল মিয়া নামের আরেক বাসিন্দা জানান, আগে এসব বর্জ্য ফেলে দিতেন, এখন বুঝছেন এগুলোর মূল্য আছে। এতে ঘর পরিষ্কারের পাশাপাশি পরিবারের জন্য বাজারও করা সম্ভব হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবক রামিম ফয়সাল জানান, মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারা এবং শহরকে পরিষ্কার রাখার এই দ্বিমুখী উদ্দেশ্যই তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জামাল উদ্দিন জানান, গত দুই বছরে সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য বিক্রি করে প্রায় এক কোটি টাকা আয় হয়েছে, যা দিয়ে চার লাখ মানুষকে খাবার দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, বর্জ্যকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদে রূপ দেওয়ার এই মডেলটি ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী এক বছরে ১০০টি ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার জানান, এই কর্মসূচির ফলে একদিকে নগর বর্জ্যমুক্ত হচ্ছে, অন্যদিকে নিম্ন আয়ের মানুষ সহায়তা পাচ্ছেন। পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে এবং বাকি ময়লা সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে মাতুয়াইল ভাগাড়ে নেওয়া হচ্ছে। ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম জানিয়েছেন, পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে নাগরিকদের উৎসাহিত করতেই এই উদ্যোগ। তিনি জানান, শুধু অস্থায়ী বাজার নয়, শিগগিরই গুলিস্তানে একটি স্থায়ী স্টল স্থাপন করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ওয়ার্ডে এটি ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া পথশিশুদের জন্য ‘বই পড়ার বিনিময়ে খাবার’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে সিটি করপোরেশনের। রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে দুটি, হাজারীবাগ ২টি, মিরপুরের ১টি আছে এই ব্যতিক্রমী বাজার। SHARES অন্যান্য বিষয়: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনপরিবেশ রক্ষাবর্জ্যের বিনিময়ে বাজারবিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনসামাজিক উদ্যোগ