নিষেধাজ্ঞার মাঝেও সন্দ্বীপে ইলিশ শিকার, সরকারি সহায়তা পাননি জেলেরা

প্রকাশিত: ৬:০০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

মা ইলিশ রক্ষায় চলমান ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের বিভিন্ন ঘাটে ইলিশ শিকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে উত্তর সন্দ্বীপের বটগাছতলা ও রহমতপুর ঘাট এলাকায় নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাতের আঁধারে এসব মাছ কেনাবেচা করা হচ্ছে। জোয়ারের ওপর ভিত্তি করে রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে জেলেরা মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরছেন এবং গোপনে ব্যবসায়ীদের কাছে মাছ বিক্রি করছেন।

নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের ধরতে মৎস্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। উপজেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৮ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২৩টি যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি অভিযানে ৩০৫ কেজি ইলিশ ও ৪২ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে এবং দুই জেলেকে জরিমানা করা হয়েছে। মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোতাছিম বিল্লাহ জানান, অভিযান আরও জোরদার করতে কোস্টগার্ডের সহায়তা নেওয়া এবং লোকবল বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ১৪ অক্টোবর বটগাছতলা ঘাটে এবং বুধবার রহমতপুর ঘাটে মৎস্য বিভাগ অভিযান পরিচালনা করেছে।

অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞার কারণে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সন্দ্বীপের জেলেরা চরম সংকটে পড়েছেন। মৎস্য বিভাগের তালিকায় ৮ হাজার ৩৩২ জন কার্ডধারী জেলে থাকলেও, নিষেধাজ্ঞার ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও আজ শুক্রবার পর্যন্ত কেউ সরকারি খাদ্যসহায়তা পাননি। অনেক জেলে অভিযোগ করেছেন যে, পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন বলেই তারা বাধ্য হয়ে সাগরে নামছেন। এছাড়া অনেক জেলের নামে এখনো মৎস্য কার্ডই তৈরি হয়নি।

তবে দক্ষিণ সন্দ্বীপের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। সেখানে সারিকাইত ইউনিয়নের বাংলাবাজার ও গাছতলী ঘাটের জেলেরা আপাতত মাছ ধরা বন্ধ রেখে জাল মেরামত ও নৌকার রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে ৩০ অক্টোবর থেকে তারা পুনরায় সাগরে ফিরবেন।

জেলেদের সহায়তা না পাওয়ার বিষয়ে সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন বলেন, সব এলাকায় চাল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। দুর্গাপূজার ছুটির কারণে বিতরণ করা সম্ভব হয়নি, আগামী রোববার থেকে এই খাদ্য সহায়তা বিতরণ শুরু হবে। মৎস্য কর্মকর্তা মোতাছিম বিল্লাহ জানিয়েছেন, কার্ডের তালিকা হালনাগাদের প্রক্রিয়া চলছে এবং যারা এখনও কার্ড পাননি, তাদের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।