মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ও সনদ যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি গঠন

প্রকাশিত: ৫:০১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০২৬

পিরোজপুরের চিতলিয়া গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাঁর দাফন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এই ঘটনায় কারা জড়িত ছিল, তা খতিয়ে দেখবে কমিটি। পাশাপাশি মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা সনদের সত্যতাও যাচাই করা হবে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের নির্দেশনায় গঠিত এই কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব। কমিটির অন্য দুই সদস্যের মধ্যে থাকবেন মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব এবং জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) একজন সদস্য। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তদন্তের প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন ও সুপারিশ পর্যালোচনা করে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে অমুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকা থেকে বাতিলের পাশাপাশি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষায় মন্ত্রণালয় দায়বদ্ধ। কোনো মুক্তিযোদ্ধা অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত হলে বা কোনো গোষ্ঠীর হয়ে ব্যবহৃত হলে তার দায়ভার তাঁকেই নিতে হবে। এছাড়া জালিয়াত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে মুক্তিযুদ্ধের স্রষ্টাদের নাম ব্যবহার করে রাষ্ট্রকে সংকটে ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় সজাগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, মানিক পশারী একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে মানিক পশারী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর জামাতার বাড়িতে ছিলেন। সেখানে দুই মাস অসুস্থ থাকার পর ২৪ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে পিরোজপুরে তাঁর দাফন ও গার্ড অব অনার প্রদানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং কিছু লোক দাফনে বাধা দেওয়ার দাবি জানান। সে সময় পিরোজপুর শহরের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল। তবে জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জহিরুল হক দাবি করেছিলেন, দাফনের বিষয়ে তাদের কোনো বাধা ছিল না এবং তারা এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।