সাতকানিয়ায় যুবককে কোপানোর ঘটনায় মামলার প্রধান অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি আটক

প্রকাশিত: ১০:২৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মাদক কারবারের প্রতিবাদ করায় এক যুবককে খুঁজতে গিয়ে তার ছোট ভাই দিলমান আকবরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে মূল অভিযুক্তরা আত্মগোপনে থাকলেও, ঘটনার প্রধান আসামি মো. রিয়াজ উদ্দিনকে চট্টগ্রাম শহর থেকে ধরে এনে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন ভুক্তভোগীর স্বজন ও এলাকাবাসী। মামলায় রিয়াজ উদ্দিন (৩২) প্রধান আসামি। ওই স্বজনের অভিযোগ, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি মহল রিয়াজকে অপহরণ করে আনা হয়েছে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে প্রচার চালিয়ে মূল ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার চরতী ইউনিয়নের সুইপুরা ব্রিজ এলাকায় প্রবাস থেকে ফিরে আসা সালমান আকবরকে খুঁজতে গিয়ে তাকে না পেয়ে তার ছোট ভাই দিলমান আকবরকে কুপিয়ে আহত করা হয়। সালমান এলাকায় মাদকের কারবার ও উঠতি তরুণদের মাদক সেবনের প্রতিবাদ করতেন, যা রিয়াজসহ স্থানীয় চিহ্নিত মাদক কারবারিদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। জনবহুল এলাকায় চিৎকার করায় লোকজন তাদের অপহরণকারী মনে করছিলেন।

এ ঘটনায় মামলার অভিযুক্তরা হলেন

  1. প্রধান আসামি মো. রিয়াজ উদ্দিন।
  2. অন্য দুই আসামি গিয়াস উদ্দিন।
  3. এবং মো. মুজিবুল হক সোহাগ।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে ছিলেন। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতকানিয়ার চরতী ইউনিয়নের সুইপুরা সেন্টার এলাকা থেকে রিয়াজকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ রয়েছে, নগরের কোতোয়ালী থানা এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাকে ধরে আনার পথে মারধরও করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে সাতকানিয়ার চরতী ইউনিয়নের সুইপুরা সেন্টার এলাকা থেকে রিয়াজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্য দুই আসামি গিয়াস উদ্দিন (৩৫) ও মো. মুজিবুল হক সোহাগ (২২)।

আহত দিলমানের পরিবারের দাবি, পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সাহায্য চেয়ে সাড়া না পেয়ে তারা ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিয়ে রিয়াজকে ধরে আনেন। গাড়িতে করে আনার সময় রিয়াজ একাধিকবার পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক রাখা হয়। তবে রিয়াজের ভগ্নিপতি মোহাম্মদ আলীর ভাষ্যমতে, চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দেওয়ার চেষ্টাকালে তাকে মারধর করা হয়েছে। পরে তারা ঘটনাটি বুঝিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। তবে পথে রিয়াজকে দু-একটি চড়-থাপ্পড় দেওয়ার কথাও স্বীকার করেন তিনি।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুল আলীম জানান, রিয়াজকে ধরে আনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। যেহেতু বিষয়টি নগরের কোতোয়ালী থানা এলাকা সংশ্লিষ্ট, তাই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে তারা কোতোয়ালী পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

অন্যদিকে কোতোয়ালী থানার ওসি মো. জাহেদুল কবির জানিয়েছেন, এক যুবককে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। পরে জানা গেছে, একটি মামলার আসামিকে কয়েকজন ব্যক্তি গাড়িতে করে সাতকানিয়ায় নিয়ে গেছেন। বিষয়টি নিয়ে সাতকানিয়া থানার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেননি। দিলমানের বাবা মুহাম্মদ হারুন বাদি হয়ে এ ঘটনায় সাতকানিয়া থানায় মামলা করেন।