পটিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু: জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী পুলিশ হেফাজতে

প্রকাশিত: ৬:০৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২৬

চট্টগ্রামের পটিয়ায় ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ঘটনায় প্রাণ হারানো গৃহবধূর নাম তানিয়া কামাল নিহাত। তিনি উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের হরিনখাইন গ্রামের মো. কামালের মেয়ে। গত রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোররাত ৪টার দিকে গৃহবধূ ও তার স্বামী নূর উদ্দিনের শয়নকক্ষে এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত গৃহবধূ ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোররাত ৪ টার দিকে গৃহবধূ ও তার স্বামী নুর উদ্দিনের শয়ন কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতে আমরা যার যার শয়ন কক্ষেই ঘুমিয়ে ছিলাম।

নিহতের মা মোর্শেদা বেগমের ভাষ্যমতে, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে নিহাতকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ও থানায় একাধিকবার সালিশি বৈঠকও হয়েছে। এরপর একটি সমঝোতা সাপেক্ষে কয়েক মাস ধরে নিহাত তার স্বামীসহ বাপের বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। তবে সম্প্রতি স্বামীর অনুরোধে নিহাত একদিনের জন্য শ্বশুরবাড়িতে যান। শনিবার রাত ১টার দিকেও মায়ের সাথে তার মোবাইলে কথা হয় এবং তখন তিনি সুস্থ ছিলেন বলে জানান। কিন্তু রাত ৪টার দিকে হঠাৎ নূর উদ্দিন ফোন করে নিহাত অসুস্থ বলে জানান এবং তাকে পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে শাশুড়িকে অবহিত করেন। নিহত গৃহবধূর মা মোর্শেদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, শশুড় বাড়ীতে দীর্ঘদিন যাবৎ তার মেয়েকে নানাভাবে যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও নিপীড়ন করে আসছিল শাশুড়ী ও ননদসহ শ্বশুড়বাড়ির লোকজন। এ নিয়ে থানা ও স্থানীয় ভাবে শালিশী একাধিক বৈঠক হয়। তবে শ্বশুড়বাড়ির লোকজন জানান, রোববার নিহাত ৩ বার বিরানি খেয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে গিয়ে মেয়েকে না পেয়ে তারা শ্বশুরবাড়িতে খোঁজ নিতে গিয়ে নিহাতের মাথার পেছনে ও গলায় ক্ষতচিহ্ন দেখতে পান। অন্যদিকে, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, নিহাত সারাদিনে তিনবার বিরিয়ানি খেয়েছিল এবং ধারণা করা হচ্ছে ফুড পয়জনিংয়ের কারণেই এই মৃত্যু হতে পারে। এ বিষয়ে নিহাতের জা যোবাইদা খানম জানান, ঘটনার রাতে সবাই নিজ নিজ কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন, হঠাৎ অসুস্থতাবোধ করলে নিহাতকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী আবুল কালাম জানিয়েছেন, অসুস্থ অবস্থায় নিহাতকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানিয়েছেন, নিহাতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী নূর উদ্দিনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। হত্যার অভিযোগের তার স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।