কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে বারবার চুরি, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

প্রকাশিত: ১২:০৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২৬

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর দ্বারপ্রান্তে থাকা কক্সবাজার বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সমুদ্রবক্ষে সম্প্রসারিত রানওয়ের ‘ক্যাটাগরি-২ প্রিসিশন অ্যাপ্রোচ লাইটিং সিস্টেমের’ গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার ও মূল্যবান যন্ত্রাংশ বারবার চুরির ঘটনা ঘটছে। এই চুরির ঘটনাগুলো এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন আগামী সোমবার (২৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিট হওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিমানবন্দর পরিচালনার জন্য এই অডিটকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত ৭ অক্টোবর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএএসসি) ১৪তম সভায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে এই শঙ্কা জোরালোভাবে উঠে আসে। সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, বিমানবন্দরের পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালকের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে চুরির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। রানওয়েতে উড়োজাহাজের নিরাপদ অবতরণের জন্য এই লাইটিং সিস্টেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যার সরঞ্জাম চুরি হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নথিতেও এই নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এত বড় ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কক্সবাজার সদর মডেল থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাদের কাছে কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ আসেনি।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম এই ঘটনাকে চরম নিরাপত্তা-ঘাটতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, কেপিআই (কি পয়েন্ট ইন্সটলেশন) এলাকায় এ ধরনের যন্ত্রাংশ চুরি হওয়া দেশের এভিয়েশন খাতের ভাবমূর্তির জন্য উদ্বেগজনক। আইকাও অডিটের ঠিক আগমুহূর্তে এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের বিমান নিরাপত্তার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তিনি দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।

বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর মো. আসিফ ইকবাল জানান, এনসিএএসসির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এটি নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পর্যটন মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং নৌপুলিশের মাধ্যমে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বেবিচকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় লাইটিং সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্থলভাগের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং, যেখানে অনুপ্রবেশ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হয়। এখন কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো চুরির নেপথ্যের কারণ খুঁজে বের করা এবং এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।