জাইমা রহমানের জাতিসংঘে নিয়োগ নিজস্ব যোগ্যতায়: মাহ্দী আমিন

প্রকাশিত: ৮:৪২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬

ব্যারিস্টার জাইমা রহমান তার ব্যক্তিগত মেধা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের পি-৩ পদে নিযুক্ত হয়েছেন। বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এ তথ্য জানান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের দূরতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

মাহ্দী আমিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ বিষয়ে গুজব ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে, যা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, বাংলাদেশ সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে কোনো চাকরি দেওয়া হয়নি এবং জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনেও তার কোনো পদায়ন হয়নি। তিনি সরাসরি জাতিসংঘের সদর দপ্তরে, ইউনাইটেড নেশনস জেনারেল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের নিজস্ব নিয়মকানুন ও সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার অধীনে তাদের নির্বাহী কার্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্সেস টিম সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এই আন্তর্জাতিক নিয়োগ সম্পন্ন করেছে। নিয়োগের যাবতীয় প্রক্রিয়া ও আর্থিক সুবিধাদি জাতিসংঘ সরাসরি বহন করে, যেখানে সরকারের সংশ্লিষ্টতার কোনো সুযোগ নেই। যে কেউ চাইলে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে এই পদের স্বচ্ছতা যাচাই করতে পারবেন।

জাতিসংঘের প্রফেশনাল কাঠামোর ব্যাখ্যা দিয়ে মাহ্দী আমিন জানান, পি-১ পদ নতুন স্নাতকদের জন্য, পি-২ পদের জন্য ন্যূনতম দুই বছরের অভিজ্ঞতা এবং পি-৩ পদের জন্য অন্তত পাঁচ বছরের মধ্যবর্তী পেশাগত অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের পেশাগত প্রোফাইলের সঙ্গে এই পদটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতীতে রাজনৈতিক বা পারিবারিক প্রভাব খাটিয়ে আন্তর্জাতিক মিশনে পদায়নের যে সংস্কৃতি দেখা গেছে, তিনি সেভাবে যাননি। তিনি কোনো সরকারি প্রতিনিধিদলেরও অংশ ছিলেন না। নিজের মেধার জোরে বিশ্বদরবারে এমন অবস্থানে পৌঁছানোকে সাধুবাদ জানানো উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক জাতিসংঘ সফর নিয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন মাহ্দী আমিন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত বহর নিয়ে সফর করেছেন। প্রতিনিধিদলে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ পদমর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গসহ মোট ৩৫ জন সদস্য ছিলেন। চার দিনের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রতিনিধিদল প্রায় ৫০টি পৃথক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন এবং সার্বিকভাবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৮০টিরও অধিক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও জাতিসংঘে ৮টি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং ৩টিতে বক্তব্য রেখেছেন। তিনি জাতিসংঘ উইমেন লিডার্স প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন এবং ওয়ার্ল্ড ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য দর্শন উপস্থাপন করেন। এছাড়া মিডওয়াইফারি সাইড ইভেন্টে তার বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে এবং মেলানিয়া ট্রাম্পের বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি বিশ্বের শীর্ষ ফার্স্ট লেডিদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন। মাহ্দী আমিন বলেন, এই সফর বৈশ্বিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা ও আত্মপরিচয়কে বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল করেছে।