‘ভাইয়া, আমাকে নিয়ে যান, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’: আদালতে সাক্ষী প্রকাশিত: ৮:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২৬ চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণকালে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সোমবার মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকেন নিহত সাইফুলের সহকর্মী আইনজীবী শহিদুল আলম। বিচারক ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজিরের আদালতে তিনি তাঁর জবানবন্দি প্রদান করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে শহিদুল আলম সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়ান। ঘটনার দিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি জানান, আদালত ভবনের বিপরীত দিকে রঙ্গম সিনেমা হলসংলগ্ন এলাকা থেকে আইনজীবীদের মিছিল নিয়ে ফেরার সময় পেছন থেকে সাইফুল তাঁকে ডাক দিয়েছিলেন। এ সময় সাইফুল হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়ে বলেছিলেন, ‘ভাইয়া, আমাকে নিয়ে যান, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ সাক্ষী শহিদুল আলম বলেন, এটিই ছিল সাইফুলের শেষ কথা। এ কথা বলার পরপরই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন, যার ফলে আদালতকক্ষে কিছুক্ষণের জন্য নীরবতা নেমে আসে এবং উপস্থিত আইনজীবীরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রায় এক মিনিট পর নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি সাক্ষ্য প্রদান অব্যাহত রাখেন। শহিদুল আলম জানান, সাইফুলের ডাক শুনে পেছনে ফিরে তিনি নীল রঙের গেঞ্জি পরা এবং হেলমেটধারী এক যুবকের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের সশস্ত্র একটি দলকে দেখতে পান। ওই যুবকের হাতে কিরিচ ছিল। তিনি আরও জানান, পরে তিনি জানতে পারেন আসামি রিপন দাসসহ অন্যরা মিলে সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে। দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁকে জেরা করেন, তবে চিন্ময় দাসের পক্ষে জেরা করার জন্য আইনজীবীর আবেদনে আদালত সময় মঞ্জুর করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম নিহত হন। এ ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচটি মামলা করা হয়। গত বছরের ১ জুলাই চিন্ময় দাসসহ ৩৮ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়, পরে ২৫ আগস্ট আরও একজনকে অন্তর্ভুক্ত করে ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলার আসামি চন্দন দাস, রিপন দাস ও রাজীব ভট্টাচার্য এরই মধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২০ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন। SHARES জাতীয় বিষয়: আইনজীবী হত্যাচট্টগ্রাম আদালতদ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালসাইফুল ইসলামসাক্ষ্য গ্রহণ