আদিবাসীদের অধিকার ও ভূমি বিরোধের সংকট কাটছে না প্রকাশিত: ১২:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২৬ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আজ ৯ আগস্ট ‘আদিবাসী জীবন ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সুরক্ষায় এগিয়ে আসুন’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে জাতিগোষ্ঠীর অধিকার ও বৈচিত্র্যের প্রশ্নগুলো পুনরায় আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বাস্তবায়ন এখনো থমকে আছে। একই সঙ্গে সমতলের জাতিগোষ্ঠীর মানুষ ভূমি দখল, উচ্ছেদ ও আইনি জটিলতায় জর্জরিত। পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদেশিদের প্রবেশে বিশেষ অনুমতির বিধান রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে চলতি মাসের শুরুতে কৃষি ও পর্যটন প্রকল্পের কাজ দেখতে রাঙামাটি ও বান্দরবানে যাওয়ার কথা ছিল আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) দুই বিদেশি কর্মকর্তার। কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁদের সফরের অনুমতি দেয়নি। আইএলওর ঢাকা কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অনুমতি না পাওয়ার বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। ঢাকায় আইএলওর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই ঘটনায় বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে ভুল বার্তা পৌঁছেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পর ১৯৯৯ সালে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠিত হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। খাগড়াছড়ি শহরের মাস্টারপাড়ায় অবস্থিত কমিশনের কার্যালয়টি অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে। ৪ আগস্ট সরেজমিনে এর মূল ফটক বন্ধ পাওয়া যায় এবং ভেতরে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন না। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক পর্যালোচনা সভায় কোনো পাহাড়ি প্রতিনিধি ছিলেন না, যা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) কেন্দ্রীয় সদস্য দীপায়ন খীসা। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ে কোনো পাহাড়ি ব্যক্তি না রাখা সরাসরি পার্বত্য চুক্তির পরিপন্থী। এর আগে গত ১ জুন দীপেন দেওয়ান অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মন্ত্রীর পদ ছাড়েন। সমতলের জাতিগোষ্ঠীর পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। উত্তরাঞ্চল, ময়মনসিংহ ও সিলেটের সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে পৃথক ভূমি কমিশনের দাবি জানিয়ে আসছে। মধুপুরের গারোরা বন বিভাগের সঙ্গে ভূমি বিরোধ ও মামলার কারণে উচ্ছেদের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক জানিয়েছেন, ভূমি সমস্যার সমাধানে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং জানান, সমতলের প্রতিনিধিরা সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে পৃথক উন্নয়ন অধিদপ্তর গঠনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। চাকমা সার্কেল প্রধান দেবাশীষ রায় বলেন, ‘রেইনবো নেশন’ তৈরির যে অঙ্গীকার ছিল, তার কোনো প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে না। পাহাড় ও সমতলে আদিবাসী মানুষের অধিকার ও ভূমি প্রশ্নে কোনো তৎপরতা নেই। তবে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার দাবি করেন, তারা জাতিগোষ্ঠীর মানুষের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং সেগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পর ১৯৯৯ সালে গঠিত হয় ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন। স্থানীয় লোকজন জানান, কার্যালয়টি অধিকাংশ সময়ই বন্ধ থাকে।৩ আগস্ট পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চলমান ও ‘সবুজ পাতা’য় অন্তর্ভুক্ত প্রকল্প নিয়ে পর্যালোচনা সভা হয়। SHARES জাতীয় বিষয়: আদিবাসী দিবসজাতিগোষ্ঠীপার্বত্য চট্টগ্রামভূমি বিরোধমানবাধিকার